হরমুজ ইস্যুতে ইরানকে চাপে ফেলতে জাতিসংঘে নতুন প্রস্তাব

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে নতুন কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইন। বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ও হুমকি বন্ধ না করলে তেহরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের অনুমোদন চেয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। এ প্রস্তাব নিয়ে সদস্যদের আলোচনা গতকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়ার কথা।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ হরমুজ প্রণালি। এর নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। চার সপ্তাহ ধরে চলা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এই সংঘর্ষ এবং উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি নৌ অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এবারের এই কূটনৈতিক উদ্যোগ পূর্বের কৌশল থেকে ভিন্ন। এতদিন যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের বাইরে থেকেই সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে এবং মিত্রদেশগুলোকে নিজস্ব তত্ত্বাবধানে নৌ টহলে অংশ নিতে চাপ দিয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত ও আইনি জটিলতার আশঙ্কায় অনেক দেশ এতে সাড়া দেয়নি। এ কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্রদের তীব্র সমালোচনা করেন।
সোমবারের উত্তেজনার পর ট্রাম্প প্রশাসন ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি নতুন উদ্যোগ ঘোষণা করে। এর উদ্দেশ্য হরমুজে আটকে পড়া তেলবাহী ট্যাংকারসহ অন্যান্য জাহাজকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া। এর মধ্যেই জাতিসংঘে নতুন খসড়া প্রস্তাবের খবর সামনে এলো, যা কূটনীতিকদের মতে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল।
একটি নথি অনুযায়ী, ওয়াশিংটন তাদের মিত্রদের কাছে ‘ম্যারিটাইম ফ্রিডম কনস্ট্রাক্ট (এমএফসি)’ নামে একটি বহুজাতিক নৌ জোট গঠনের প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এই জোটের লক্ষ্য যুদ্ধ-পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা। এর আগে বাহরাইনের আনা একটি প্রস্তাবে নিষেধাজ্ঞা ও শক্তি প্রয়োগের বিষয় থাকলেও রাশিয়া ও চীনের আপত্তিতে তা ব্যর্থ হয়। নতুন খসড়াটি তুলনামূলকভাবে সতর্কভাবে তৈরি করা হয়েছে। এতে সরাসরি শক্তি প্রয়োগের কথা না থাকলেও জাতিসংঘ সনদের ‘অধ্যায় ৭’-এর আওতায় আনা হয়েছে, যা প্রয়োজনে নিষেধাজ্ঞা থেকে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেয়।
প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতায় বাধা দেওয়ার জন্য ইরানের নিন্দা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তেহরানকে অবিলম্বে হামলা বন্ধ করতে এবং কোথায় মাইন পাতা হয়েছে তা প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে। ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে মানবিক করিডর তৈরিতে জাতিসংঘের সঙ্গে সহযোগিতার কথাও এতে উল্লেখ রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ৮ মে’র মধ্যে চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত করে পরবর্তী সপ্তাহের শুরুতে ভোটাভুটির পরিকল্পনা করছে। তবে রাশিয়া ও চীনের বিকল্প প্রস্তাব বিবেচনায় থাকায় আলোচনার গতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এদিকে নিরাপত্তা পরিষদের উদ্যোগের পাশাপাশি এমএফসি গঠনে কূটনৈতিক তৎপরতাও চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় ৩০টি দেশের অংশগ্রহণে গঠিত একটি পৃথক ফরাসি-ব্রিটিশ নৌ মিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে এই জোট কাজ করবে।
ফরাসি-ব্রিটিশ উদ্যোগটি মূলত যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপদ নৌ চলাচলের পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা করছে। তবে অনেক দেশই সামরিক সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সরাসরি অনুমোদনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। একটি অনানুষ্ঠানিক কূটনৈতিক নথিতে বলা হয়েছে, এমএফসি স্বাধীনভাবে কাজ করলেও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্যান্য টাস্কফোর্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখবে।
ভিওডি বাংলা/এমএস







