‘বিতর্কিত স্লোগান’ বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করল এনসিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
সম্প্রতি আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে অনুষ্ঠিত শাহবাগ ব্লকেড কর্মসূচিতে ‘গোলাম আযমের বাংলায়, আওয়ামী লীগের ঠাঁই নাই’, ও ‘নিজামির বাংলায় আওয়ামী লীগের ঠাঁই নাই’ শীর্ষক স্লোগানের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। জাতীয় নাগরিক পার্টি এই আন্দোলনের প্রধান আয়োজক হওয়াই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অনেকেই। অবশেষে বিষয়টি নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে এনসিপি।
সোমবার (১২ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ বিষয়ে দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি।
বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি- আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করে নিষিদ্ধ করা, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনে আওয়ামী লীগের দলগত বিচারের বিধান যুক্ত করা এবং জুলাইয়ের ঘোষণাপত্র জারি করার দাবিতে ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, মত, পক্ষ এবং সাধারণ ছাত্র-জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করলেও একটি পক্ষ সচেতনভাবে দলীয় স্লোগান এবং বাংলাদেশের জনগণের ঐতিহাসিক সংগ্রামবিরোধী স্লোগান দিয়েছে। যা জুলাই পরবর্তী সময়ে সাম্প্রতিক আন্দোলনে জাতীয় ঐক্য নবায়নের সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টিতে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে।
আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলছি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কোনো সদস্য সাম্প্রতিক আন্দোলনে দলীয় স্লোগান কিংবা এই জনপদের মানুষের সংগ্রাম ও ইতিহাসবিরোধী কোনো স্লোগান দেয়নি। ফলে যেসব আপত্তিকর স্লোগান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, তার দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট পক্ষটিকেই বহন করতে হবে। এনসিপিকে এর সঙ্গে জড়ানো সম্পূর্ণ অহেতুক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। বরং এনসিপি সদস্যদের বক্তৃতা ও স্লোগানে এই জনপদের মানুষের ঐতিহাসিক সংগ্রামের অধ্যায়সমূহ তথা ১৯৪৭, ১৯৭১ এবং ২০২৪ এর প্রতিফলন ছিল।
আমরা আরও লক্ষ্য করেছি, আন্দোলনকারীরা জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনার সময় একটি পক্ষ আপত্তি জানালেও তারা দৃঢ়তার সঙ্গে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে।
এনসিপি মনে করে, বাংলাদেশের মানুষের ঐতিহাসিক সংগ্রামের অধ্যায়সমূহ তথা, ১৯৪৭, ১৯৭১ এবং ২০২৪ এর যথাযথ স্বীকৃতি এবং মর্যাদা বাংলাদেশে রাজনীতি করার পূর্বশর্ত। যারা ১৯৭১ সালে এই জনপদের মানুষের জনযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছিল এবং যাদের বিরুদ্ধে গণহত্যায় সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে, আমরা চাই তারা নিজেদের সুস্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান জাতির সামনে ব্যাখ্যা করে জাতীয় সমঝোতা ও ঐক্যকে সুদৃঢ় করবে এবং চব্বিশের অভ্যুত্থানের জনআকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নে সহযোগী হবে।
গণমাধ্যমে পাঠানো এই বিবৃতিতে জানানো হয়, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনে যৌক্তিক দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন থাকলেও, দলীয় স্লোগান ও জনগণের ইতিহাসবিরোধী কোনো বক্তব্যের সঙ্গে এনসিপি জড়িত নয়।
বিগত ফ্যাসিবাদি জমানায় নির্যাতিত-নিপীড়িত হয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে বাংলাদেশের নাগরিকদের পক্ষে চব্বিশের অভ্যুত্থানে যারা ভূমিকা পালন করেছেন, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তাদেরকে আবশ্যিকভাবে ‘বাংলাদেশপন্থি’ ভূমিকা পালন করে যেতে হবে।
এনসিপি মনে করে, কোনো রাজনৈতিক দল বা পক্ষের পূর্বেকার রাজনৈতিক অবস্থান বা আদর্শের কারণে ইতোপূর্বের বিভাজন ও অনৈক্যের রাজনীতির সূত্রপাত ঘটলে, সংশ্লিষ্ট দল বা পক্ষের দায় রয়েছে বাংলাদেশের মানুষের সামনে নিজেদের সুস্পষ্ট অবস্থান ব্যাখ্যা করে জাতীয় ঐক্যের পথে হাঁটার। বাংলাদেশের জনগণের মধ্যকার বৃহত্তর ঐক্যের মাধ্যমেই কেবল মুজিববাদকে সামগ্রিকভাবে পরাস্ত করা সম্ভব হবে বলে আমরা মনে করি।
বাংলাদেশের জনগণের সুন্দর ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য সব পক্ষকে দূরদর্শী সিদ্ধান্ত ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানায় এনসিপি।
সেই সাথে যারা ১৯৭১ সালে এই জনপদের মানুষের জনযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছিল এবং যাদের বিরুদ্ধে গণহত্যায় সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে, তাদের সুস্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
ভিওডি বাংলা/ডিআর






