হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফের উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই আবারও উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’। একদিকে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর উদ্যোগের খবর প্রকাশিত হয়েছে, অন্যদিকে তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে—হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব শুধুই ইরানের।
ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা কিছুটা কমলেও কৌশলগত এই জলপথকে ঘিরে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
দোহায় আলোচনার ইঙ্গিত
মার্কিন সংবাদমাধ্যম *অ্যাক্সিওস* জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছে। মূল আলোচ্য বিষয় হবে হরমুজ প্রণালিতে চলাচল এবং সাম্প্রতিক উত্তেজনা প্রশমনের উপায়।
যদি বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়, তবে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর এটিই হবে দুই পক্ষের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক যোগাযোগ।
তেহরানের কঠোর বার্তা
তবে আলোচনার সম্ভাবনার মধ্যেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান।
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, *হরমুজ প্রণালির দায়িত্ব ও নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে ইরানের হাতে*। এই জলপথে ইরানের নির্ধারিত রুট বা নিয়ম এড়িয়ে যাওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা নতুন উত্তেজনা ও সংঘাতের জন্ম দিতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।
এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, ইরান কৌশলগত এই সমুদ্রপথে নিজেদের প্রভাব কোনোভাবেই কমাতে রাজি নয়।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি?
বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম কেন্দ্র এই হরমুজ প্রণালি।
পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি হওয়া বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
ফলে এখানে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা বা নৌ চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, তেলের দাম এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে পারে।
আঞ্চলিক উত্তেজনাও অব্যাহত
হরমুজ ইস্যুর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অন্য ফ্রন্টগুলোতেও অস্থিরতা কমেনি।
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরও চার ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় কুনেইত্রা ও দারা প্রদেশে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের নিন্দা জানিয়ে দামেস্ক বলেছে, এ ধরনের হামলা পুরো অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিতে পারে।
এদিকে লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি ইসরায়েলের সঙ্গে প্রস্তাবিত কাঠামোগত চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, লেবাননের অধিকার নিশ্চিত না হলে এমন কোনো চুক্তি কার্যকর হবে না।
বিশ্লেষণ
যুদ্ধবিরতির পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত কমে আসবে। কিন্তু হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে উভয় পক্ষের অবস্থান এখনও স্পষ্টভাবে ভিন্ন।
দোহার সম্ভাব্য আলোচনা কূটনৈতিক সমাধানের একটি সুযোগ তৈরি করলেও, ইরানের কঠোর বার্তা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে কৌশলগত স্বার্থের প্রশ্নে তেহরান কোনো ছাড় দিতে প্রস্তুত নয়।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর হওয়ায় হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আগামী কয়েক দিনের কূটনৈতিক আলোচনা এই সংকট কোন দিকে মোড় নেবে, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা
ভিওডি বাংলা/আরআর/আ








মন্তব্য