সরকারের কর্মকাণ্ড জনআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী: সংসদে মাসুদ সাঈদী

প্রস্তাবিত বাজেটকে ঘিরে জাতীয় সংসদে কড়া সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। বাজেটের বাস্তবায়ন সক্ষমতা, শিক্ষাখাতের বরাদ্দ, রাজনৈতিক আচরণ এবং বিরোধীদলীয় এমপিদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ তুলে সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি।
রোববার (২১ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১১তম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন পিরোজপুর থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ড জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক দাবি করে মাসুদ সাঈদী বলেন, বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন,
‘সবার আগে দেশ’। কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ড দেখে জনগণ এখন বলছে- ‘সবার আগে বিএনপি, সবার আগে ক্ষমতা।’
প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অর্থবছরেই শতভাগ বাজেট বাস্তবায়ন হয়নি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল মাত্র ৬৭.৮৫ শতাংশ, যা ১৯৭৬-৭৭ সালের পর সর্বনিম্ন। অবাস্তব রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা, ব্যাংক ঋণ নির্ভরতা এবং দক্ষ প্রশাসনিক সক্ষমতার অভাবে বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে বড় অনিশ্চয়তা রয়েছে।’
শিক্ষাখাতের বরাদ্দ নিয়ে অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষাখাতে এক লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর বরাদ্দ যোগ করলে দাঁড়ায় এক লাখ ২২ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। তাহলে বাকি ১৪ হাজার কোটি টাকার হিসাব কোথায়? এই টাকা কোথায় খরচ হবে, তা বাজেটে দেখানো হয়নি।’
সরকারের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার কথা বললেও মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন নেই। জমি দখল, অফিস দখল ও বেপরোয়া চাঁদাবাজি চলছে। নির্বাচনে পরাজিত ব্যক্তিদের জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ এবং নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষগুলোতে দলীয় নেতাকর্মীদের বসানোর মাধ্যমে জুলাই স্পিরিটের অবমাননা করা হচ্ছে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধীদলীয় এই এমপি। তিনি বলেন, ‘একটি হাসপাতালের লাইসেন্স তড়িঘড়ি করে বাতিল করা হয়েছে, যা মাথাব্যথার কারণে মাথা কেটে ফেলার শামিল। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নির্বাচনের আগে বলেছিলেন- নির্বাচন পার হলে তিনি তার ‘চাউড়া’ রূপ দেখাবেন। লাইসেন্স বাতিল কি তার সেই রূপেরই অংশ?’
বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের বঞ্চিত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা যেভাবে বরাদ্দ পাচ্ছেন, আমরা যারা বিরোধী দলে আছি তারা চরমভাবে বঞ্চিত হচ্ছি। বিনিয়োগের কথা বলা হলেও ইসলামী ব্যাংক ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সাথে সরকারের আচরণ ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নষ্ট করছে।’
নিজ নির্বাচনী এলাকা পিরোজপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গেও কথা বলেন মাসুদ সাঈদী। তিনি বলেন, ‘পিরোজপুরকে অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা ও রেললাইন দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। তবে পিরোজপুরে ৬ হাজার কোটি টাকার যে দুর্নীতি হয়েছে, তার কারণে গত দুই বছর কোনো উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি। রাস্তাঘাট সব বিধ্বস্থ হয়ে আছে।’
ভিওডি বাংলা/এমএস







