ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক শিক্ষায় আমূল পরিবর্তন, আসছে নতুন কারিকুলাম

দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন প্রজন্মকে নৈতিকতা, নাগরিক দায়িত্ববোধ ও বাস্তবজীবনভিত্তিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে ২০২৮ সালের নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
শনিবার (২০ জুন) রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আয়োজিত “প্রাইমারি কারিকুলাম ডেভেলপমেন্ট” বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। সভায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ), জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি), উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন কারিকুলাম হবে সম্পূর্ণ মূল্যবোধনির্ভর ও শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক। এতে পারিবারিক মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চেতনা এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মৌলিক সাক্ষরতা ও সংখ্যাজ্ঞান নিশ্চিত করাকেও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়নের ক্ষেত্রে শিশুদের বাস্তব শেখার সক্ষমতা, ভাষা দক্ষতা, গণিতের ভিত্তিমূলক জ্ঞান এবং জীবনঘনিষ্ঠ শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে এমন একটি শিক্ষা পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে একজন শিক্ষার্থী শুধু বই পড়বে না, বরং তা বুঝে নিজের ভাষায় প্রকাশ করতে পারবে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী যেন সহজেই পাঠ বুঝতে পারে এবং শেখার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে, সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ চলছে। নতুন কারিকুলামে প্রতিটি শ্রেণির জন্য নির্দিষ্ট শেখার ফলাফল নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি পঞ্চম শ্রেণি শেষে একজন শিক্ষার্থীর কী ধরনের দক্ষতা অর্জন করা প্রয়োজন, তারও একটি স্পষ্ট রূপরেখা তৈরি করা হবে।
তিনি আরও বলেন, এই “এক্সিট প্রোফাইল”-এর ভিত্তিতেই পাঠ্যপুস্তক, শিক্ষক নির্দেশিকা, মূল্যায়ন পদ্ধতি ও অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রী প্রস্তুত করা হবে। ফলে শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি আরও কার্যকরভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।
সভায় প্রতিমন্ত্রী ডিজিটাল শিক্ষা সম্প্রসারণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, নতুন কারিকুলামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য ভিডিও লেসন, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং সহায়ক শিক্ষাসামগ্রী তৈরি করা হবে। বিশেষ করে প্রাক-প্রাথমিক স্তরে খেলাধুলা ও আনন্দভিত্তিক শিক্ষণ পদ্ধতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইন্টারঅ্যাকটিভ ফ্ল্যাট প্যানেল (আইএফপি) স্থাপন করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে এই প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি, ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচি, গণসাক্ষরতা অভিযান (ক্যাম্পে) এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ভিওডি বাংলা/






