জেলা পরিষদে ১৭৭ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ

দেশের বিভিন্ন জেলার অবকাঠামো ও জনকল্যাণমূলক উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদারে ১৭৭ কোটি ৭৯ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকার বিশেষ বরাদ্দ অনুমোদন করেছে সরকার। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় এ অর্থ এককালীন অবমুক্ত করেছে।
গত ২ জুন জারি করা স্থানীয় সরকার বিভাগের এক আদেশে বলা হয়, ‘জেলা পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা’ খাতের বিশেষ বরাদ্দ উপখাত থেকে দেশের ৬১টি জেলা পরিষদের অনুকূলে এ অর্থ ছাড় করা হয়েছে। জেলা পরিষদগুলো নিজ নিজ এলাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে এই অর্থ ব্যয় করতে পারবে।
সরকারি আদেশ অনুযায়ী, জেলার প্রয়োজন ও উন্নয়ন চাহিদা বিবেচনায় পৃথকভাবে বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে। অধিকাংশ জেলা পরিষদকে ২ কোটি ১১ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং কয়েকটি জেলা পরিষদকে ২ কোটি ৯১ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বরাদ্দ পাওয়া জেলার মধ্যে রয়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, কক্সবাজার, নোয়াখালী, ফরিদপুর, গাজীপুর, নরসিংদী, যশোর, বগুড়া, পাবনা, দিনাজপুর, মৌলভীবাজার, সাতক্ষীরাসহ দেশের ৬১টি জেলা পরিষদ।
স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এ অর্থ সড়ক, সেতু-কালভার্ট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক স্থাপনা নির্মাণ, পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা হবে। এতে জেলা পর্যায়ের উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আদেশে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয় আইন, সরকারি ক্রয় বিধিমালা, জেলা পরিষদ উন্নয়ন কর্মসূচি নির্দেশিকা এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক বিধি-বিধান কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, নির্ধারিত উন্নয়ন কার্যক্রম ছাড়া অন্য কোনো খাতে এ অর্থ ব্যয় করা যাবে না। কোনো অনিয়ম বা বিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়ভার বহন করতে হবে। এছাড়া ভবিষ্যতে নতুন বরাদ্দ পাওয়ার আগে বর্তমান অর্থ ব্যয়ের হিসাব যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদনের ভিত্তিতে এ বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, জেলা পরিষদের মাধ্যমে স্থানীয় চাহিদাভিত্তিক ছোট ও মাঝারি উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হওয়ায় এ বরাদ্দ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, জনসেবার মানোন্নয়ন এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ভিওডি বাংলা/আ







