ভাই বোনের সম্পত্তি দখলে রেখেছেন আ. লীগ নেতা

ফেনীর দাগনভূঞা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের আলাইয়াপুর হাজী দানা মিয়ার বাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ওয়ারিশি সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একই পরিবারের গোল বাহার, নুর জাহান, আব্দুর রশিদ ও মো. ইব্রাহিম লিটনসহ একাধিক ব্যক্তি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মৃত বজলের রহমান ও সৈয়দুন্নেছার রেখে যাওয়া সম্পত্তি আমিনুল্লাহ ও আওয়ামী লীগ নেতা ওলিউল্লাহ (পিতা: মৃত হাবিবুর রহমান) ভোগদখল করে আসছেন। একই অভিযোগে অভিযুক্ত আব্দুল মালেক, শাহজাহান, শাহ আলমসহ আরও কয়েকজন ওয়ারিশ।
এ বিষয়ে নুর জাহান ও মুজিবুল হক বাদী হয়ে ২০২২ সালে দাগনভূঞা সিনিয়র জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। তারা দাবি করেন, তাদের ন্যায্য অংশ বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি আওয়ামিলীগ এর প্রভাব খাটিয়ে।
সম্পত্তির বিষয়ে, মো. ইব্রাহিম লিটন বলেন, “আমাদের দাদা-দাদির সম্পত্তি ও ক্রয়কৃত জমির কাগজপত্র গোপন রেখে আমাদের প্রাপ্য অংশ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বহুবার সমাধানের চেষ্টা করেও কোনো ফল পাইনি।
আব্দুর রশিদ অভিযোগ করে বলেন, “আমার ঘরের ছাদ কেটে ফেলা হয়েছে। সে আওয়ামীলীগ এর প্রভাব খাটিয়ে এই কাজ গুলো করেছেন।
বজলের রহমানের মেয়ে গোল নাহার বলেন, এ সম্পত্তি আমাদের বাবা-মায়ের। আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার চাই।” নুর জাহান বলেন, “সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আমাদের সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
এসময় লাকি ও সেমনা নামের দুই স্বজনও দাবি করেন, তারা তাদের নানা-নানির সম্পত্তির ন্যায্য অংশ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময় হয়রানির শিকার হয়েছেন হয়েছেন লাঞ্চিত ।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আমিনুল ইসলামের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বজলের রহমানকে জীবিত অবস্থায় সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত (না-মরন) করা হয়েছে। তাই তার উত্তরাধিকারীরা ওই সম্পত্তির দাবিদার নন।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা ওলিউল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার দাদা জীবিত অবস্থায় সম্পত্তি বণ্টন করে গেছেন। তাই তারা এ সম্পত্তির দাবিদার নন।”তিনি আরও দাবি করেন, “আমাদের পরিচিত অনেক সাংবাদিক আছেন এবং বিভিন্ন মহলের সঙ্গেও আমাদের যোগাযোগ রয়েছে।” অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার সময় ওলিউল্লাহ উত্তেজিত আচরণ করেন বলেও উপস্থিত ব্যক্তিরা জানান। জানা যায় অভিযুক্ত ওলিউল্লাহ দাগনভূঞা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ১ নং ওয়ার্ড দাগনভূঞা পৌরসভার সাবেক সভাপতি।
বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ফলে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বিষয়টি আদালতের রায় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
ভিওডি বাংলা/এমএস







