মন্ত্রী রবিউলের ক্যারিশমায় কান্নার বদলে স্বস্তি

বাস ফেরিতে ওঠার আগে সব যাত্রী নামতে হবে। দুই মাস আগে নৌ পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের এমন দৃঢ় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নেই ভয়াবহ ট্র্যাজেডি থেকে রক্ষা পেলো দেশ। প্রাণে বেঁচে বাড়ি ফিরলেন ৩৭ যাত্রী ও ৩ বাসকর্মীসহ ৪০ জন।
যাদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসতে পারতো ৫ জুন (শুক্রবার) সকালে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায়। অথচ সব যাত্রী অক্ষত।
একটি দূরদর্শী ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত মৃত্যুর বদলে মানুষকে কতটা সুরক্ষিত রাখতে পারে তার জ্বলন্ত উদারহন সৃষ্টি করলেন নৌ পরিবহন মন্ত্রী।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয়ের দৃঢ় পদক্ষেপ বড় একটা বিপদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করল।’
এ কথা স্বীকার করেছেন- দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও পরিবহনখাত নিয়ে কাজ করা সংগঠনের নেতারাও। তারা পরবর্তীতেও মন্ত্রীর এমন সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করছেন।
ফেরিঘাটে কর্মরত বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসির একাধিক কর্মকর্তা ভিওডি বাংলাকে বলেন, নৌ পরিবহন মন্ত্রী এমন শক্ত অবস্থান নিয়ে পদক্ষেপটি বাস্তবায়ন না করলে যাত্রীদের কেউই হয়ত বেঁচে ফিরতেন না।
নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, মন্ত্রী শুধু নিয়ম জারি করেই থেমে থাকেননি। ফেরিঘাটে সব যাত্রী নামনো হয় কিনা- গত দুই মাসের বেশি সময় ধরে সরাসরি মনিটরিং করেছেন। তার স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল- কোনো যাত্রী থাকলে সে বাস ফেরিতে উঠতে পারবে না।
বিষয়টি প্রতিপালন হচ্ছে কি না- নানাভাবে খোঁজ নিতেন মন্ত্রী নিজেই। তিনি এখনও প্রায় প্রতিদিন নৌ সচিবসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেন বলেও জানান কর্মকর্তারা।
৫ জুন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মেহেরপুরের গাংনী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ঘাটে ‘কবরী’ ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারায়। মুহূর্তে পল্টুনের র্যাম্প ভেঙে বাসটি তলিয়ে যায় উত্তাল পদ্মায়। এ দৃশ্য উপস্থিত সবার বুকে কাপন ধরায়, হিম হয়ে আসে রক্ত। কারণ, এর আগে ২৫ মার্চ এই ফেরিঘাটে কুষ্টিয়া থেকে আসা ‘সৌহার্দ্য পরিবহনের’ একটি বাস একইভাবে পদ্মায় ডুবে যায়। সলিলসমাধি ঘটে ২৬ জন যাত্রীর।
সেই ট্রাজেডির পর যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আপোষহীন অবস্থান নেন মন্ত্রী রবিউল আলম। ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রী নামানো বাধ্যতামূলক করতে নৌপুলিশ ও মন্ত্রণালয়ের কর্মীসহ সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দেন। নিজেই তদারকি করেন।
ওই বাসে থাকা এক নারী যাত্রী স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ভিওডি বাংলাকে বলেন, ফেরিতে ওঠার ঠিক আগেই আমাদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কেউ কেউ নামতে অনিহা দেখালেও ফেরিঘাটের সরকারি কর্মী ও নৌ পুলিশের সদস্যরা যাত্রীদের নামতে বাধ্য করেন। তারা যাত্রীদেরকে নৌমন্ত্রীর কড়া আদেশের কথা জানান।
ইতিমধ্যেই এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে উচ্চপর্যায়ের একাধিক কমিটি গঠন হয়েছে। চলছে তদন্ত।
সবাই একবাক্যে স্বীকার করছেন যে, মন্ত্রী রবিউল আলমের একটি পদক্ষেপেই পাল্টে গেল গোটা চিত্র। বুকফাটা কান্নার বদলে দেশজুড়ে এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস।
ভিওডি বাংলা/এমএস







