• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live
টপ নিউজ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় রাজনৈতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত তারেক রহমানের নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে ক্রীড়াঙ্গন: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জিমেইল হ্যাক করে লাখ লাখ টাকা লুট, মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার ২ 'গুপ্তলীগের গুপ্তমিছিল’ প্রতিহতে চট্টগ্রামে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে বৈশ্বিক ঐক্যের আহ্বান পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার যাচ্ছেন ১৪ জুন বাস উদ্ধার, দৌলতদিয়ায় ফের যানবাহন পারাপার শুরু নাগরিক সুবিধা বাড়াতে প্রয়োজন সঠিক উদ্যোগ: ডিএসসিসি প্রশাসক সাংস্কৃতিক সম্পদ সুরক্ষায় বাংলাদেশ-তুরস্ক সমঝোতা নিষ্ঠা ও সততাই মানুষকে সমাজে স্মরণীয় করে রাখে: আবদুস সালাম

ক্রেতা নেই, তবু নিত্যপণ্যের বাজার চড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৫ জুন ২০২৬, ০৪:১৯ পি.এম.
রাজধানীর বাজারে ঈদ-পরবর্তী স্থবিরতা, তবে দামে নেই বড় পরিবর্তন। ছবি: সংগৃহীত

ঈদুল আজহার ছুটির আমেজ এখনো রাজধানীতে স্পষ্ট। অনেক মানুষ এখনো গ্রামের বাড়ি থেকে ফেরেননি, ফলে ঢাকার কাঁচাবাজারগুলোতে ক্রেতার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তবে ক্রেতা কমলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে তেমন কোনো স্বস্তি মেলেনি। বরং এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেশিরভাগ সবজির বাজার উচ্চমূল্যের মধ্যেই রয়েছে।  

শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, সাধারণ দিনের তুলনায় দোকানপাট অনেকটাই ফাঁকা। বিশেষ করে মাছ, মাংস ও ডিমের দোকানগুলো পুরোপুরি সচল হয়নি। কিছু দোকান খুললেও ক্রেতার সংখ্যা ছিল সীমিত, ফলে বিক্রেতারা অপেক্ষার সময়ই বেশি পার করছেন। বাজারের মুরগি ও মাংস বিক্রেতারা জানান, ঈদের পর প্রথম কয়েকদিন বিক্রি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। কোরবানির মাংস ঘরে থাকায় অনেক পরিবার এখনো বাজারমুখী হয়নি। পাশাপাশি শহরের একটি বড় অংশ এখনো গ্রামে অবস্থান করায় চাহিদা আরও কমে গেছে।

রামপুরা এলাকার এক মুরগি বিক্রেতার ভাষ্য অনুযায়ী, দোকান খুললেও বিক্রি খুবই সীমিত। তার মতে, পুরোপুরি জনচলাচল স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিক্রিতে গতি আসবে না। একই ধরনের অভিমত দেন অন্য বিক্রেতারাও।

সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে সবজির বাজারে। বিভিন্ন সবজির দাম স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা। কোথাও কোথাও দাম প্রায় দ্বিগুণ পর্যন্ত বেড়েছে।

বর্তমান বাজারদরে দেখা যায়, দেশি টমেটো কেজি প্রতি প্রায় ১৪০ থেকে ১৭০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। দেশি গাজর ১৬০ টাকার কাছাকাছি, আর আমদানি করা বা চায়না গাজর আরও বেশি দামে-প্রায় ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বেগুনের বিভিন্ন জাতেও রয়েছে ভিন্নতা। লম্বা বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ৮০ টাকা এবং কালো গোল বেগুন ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শিমের দাম তুলনামূলক অনেক বেশি, যা প্রায় ৩০০ টাকার ওপরে পৌঁছেছে। শজনে বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১৮০ টাকায়।

শসার দামেও রয়েছে তারতম্য, দেশি শসা ১২০ থেকে ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে উচ্ছে, করলা, ঢেঁড়স, পটোল, চিচিঙ্গা, ঝিঙা, বরবটি-সবগুলো সবজিই ৭০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে অবস্থান করছে।

ধনেপাতার দামও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে প্রায় ২০০ টাকায় পৌঁছেছে। কাঁচা মরিচের দামও ১৪০ টাকার কাছাকাছি।

সব সবজির দাম অবশ্য একরকম বাড়েনি। কিছু পণ্যে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। যেমন-মিষ্টি কুমড়া কেজি প্রতি ৪০ টাকা, ফুলকপি ৭০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

লাউ আকারভেদে ৮০ টাকা, চাল কুমড়া ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং কাঁচা কলা হালি হিসেবে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ টাকায়।

সবজি ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজার এখনো পুরোপুরি সচল হয়নি। ফলে সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতির প্রভাব সরাসরি পড়ছে খুচরা বাজারে।

তাদের মতে, ঈদের ছুটির কারণে পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ফলে বাজারে পণ্যের প্রবাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বেশি থেকে যাচ্ছে।

আলু ও পেঁয়াজে তুলনামূলক স্বস্তি

সবজির বাজারে অস্থিরতা থাকলেও আলু ও পেঁয়াজের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। দেশি পেঁয়াজ কেজি প্রতি প্রায় ৪৫ টাকা, ক্রস জাতের পেঁয়াজ ৪০ টাকা এবং আলু ২৫ টাকার কাছাকাছি বিক্রি হচ্ছে।

রসুন ও আদার বাজারে কিছুটা ওঠানামা থাকলেও তা নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে। দেশি রসুন ৯০ থেকে ১০০ টাকা, চায়না রসুন ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা, চায়না আদা প্রায় ১৮০ টাকা এবং ভারতীয় আদা ১৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে চড়া দাম, সরবরাহ স্বাভাবিক

মাছের বাজারে সরবরাহ তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকলেও দাম বেশ চড়া। ইলিশ মাছের দাম আকারভেদে প্রায় ১৩০০ থেকে ৩০০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। রুই মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং কাতলা ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কালিবাউশ মাছ ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা এবং চিংড়ি মাছ ৮০০ থেকে ১৮০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া কাঁচকি মাছ প্রায় ৫০০ টাকা, কৈ ২৬০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং শিং মাছ ৪০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

টেংরা মাছ প্রায় ৭০০ টাকা, বেলে মাছ ৭০০ থেকে ১২০০ টাকা এবং বোয়াল মাছ ৬০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

মুরগি ও ডিমের বাজারে মিশ্র অবস্থা

মুরগির বাজারে দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও চাহিদা কমে গেছে। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি কেজি প্রতি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, কক মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের বাজারেও দাম মোটামুটি স্থিতিশীল। লাল ডিম ডজনপ্রতি প্রায় ১২০ টাকা, সাদা ডিম ১১০ টাকা এবং হাঁসের ডিম ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

গরু-খাসির মাংসে স্থিতিশীল দাম, তবে চাহিদা কম

গরুর মাংসের দাম আগের মতোই কেজি প্রতি প্রায় ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকার মধ্যে রয়েছে। খাসির মাংস ১১০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে বিক্রেতারা জানিয়েছেন, কোরবানির পর অনেক পরিবার ঘরে মাংস মজুত রাখায় বাজারে চাহিদা কমে গেছে। ফলে বিক্রি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেকটাই কম।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
সংস্কারের বাজেটে থাকছে কর নিয়ে স্বস্তির বার্তা
সংস্কারের বাজেটে থাকছে কর নিয়ে স্বস্তির বার্তা
মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় ঊর্ধ্বমুখী জ্বালানি তেলের বাজার
মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় ঊর্ধ্বমুখী জ্বালানি তেলের বাজার
দক্ষ ও জনমুখী মন্ত্রণালয় গড়তে রোডম্যাপ ঘোষণা বাণিজ্যমন্ত্রীর
দক্ষ ও জনমুখী মন্ত্রণালয় গড়তে রোডম্যাপ ঘোষণা বাণিজ্যমন্ত্রীর