মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে চলায় ফেরিঘাট দুর্ঘটনায় প্রাণরক্ষা

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যাত্রী নিরাপত্তা নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে একাধিক প্রাণ। যাত্রী নামিয়ে দিয়ে ফেরিতে যানবাহন ওঠানোর নিয়ম মেনে চলার কারণে একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে গেলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
বৃহস্পতিবার (৫ জুন) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী এস বি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরি ‘কবরী’-তে ওঠানোর সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ফেরিতে ওঠার মুহূর্তে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং কনভেনশন পকেট হয়ে বিপজ্জনকভাবে এগিয়ে গিয়ে ফেরির বিপরীত পাশের র্যাম ভেঙে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
তবে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ফেরিতে ওঠার আগে বাসের সব যাত্রীকে আগেই নামিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ফলে বাসটি নদীতে পড়লেও কোনো যাত্রী ভেতরে না থাকায় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন, নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ড উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং উদ্ধার কাজ শুরু করা হয়।
এদিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান পরিচালনা করে নদীতে ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধার কার্যক্রমে বিআইডব্লিউটিএ ছাড়াও বিআইডব্লিউটিসি, নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা সমন্বিতভাবে অংশ নেন।
দুর্ঘটনায় বাসের চালক ও সহকারীকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফেরিঘাট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নিয়ম-কানুন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। বিশেষ করে ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রী নামানো, নির্ধারিত পথ ব্যবহার এবং ঘাট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মানা বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণ করতে হবে।
ভিওডি বাংলা/জা







