• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

তোফায়েল আহমেদের ৬ দশকের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন

ভিওডি বাংলা ডেস্ক    ১ জুন ২০২৬, ১০:১৭ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক, মহান মুক্তিযুদ্ধের সক্রিয় নেতৃত্বদানকারী, সাবেক মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ আর নেই।

সোমবার (১ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তোফায়েল আহমেদ ছিলেন বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, সংসদীয় রাজনীতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ এক নাম। প্রায় ছয় দশকের রাজনৈতিক পথচলায় তিনি ছাত্রনেতা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, রাজনৈতিক সচিব, মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

গ্রাম থেকে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু

১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোফায়েল আহমেদ। তার বাবা ছিলেন মৌলভী আজহার আলী এবং মা ফাতেমা বেগম।

শিক্ষাজীবনে তিনি ১৯৬০ সালে ভোলা সরকারি হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৬২ সালে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৬৪ সালে বিএসসি সম্পন্ন করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিষয়ে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে তিনি দ্রুত নেতৃত্বের পর্যায়ে উঠে আসেন। ১৯৬৬-৬৭ মেয়াদে তিনি ইকবাল হলের (বর্তমান শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) নির্বাচিত ভিপি ছিলেন।

১৯৬৮-৬৯ সালের গণজাগরণ ও ছাত্র আন্দোলনে তিনি ডাকসুর ভিপি হিসেবে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময়ের আন্দোলনই পরবর্তীতে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত শেখ মুজিবুর রহমানসহ সব বন্দির মুক্তির পথ প্রশস্ত করে।

‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি ঘোষণার ঐতিহাসিক মুহূর্ত

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তোফায়েল আহমেদের নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয় ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এক ঐতিহাসিক জনসমাবেশের কারণে।

সেদিন ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) লাখো মানুষের উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আয়োজিত সভায় শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করার ঘোষণা দেন তোফায়েল আহমেদ। পরবর্তীতে এই উপাধিই বাঙালি জাতির ইতিহাসে স্থায়ীভাবে স্থান করে নেয়।

মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা

১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার নির্বাচিত হন তোফায়েল আহমেদ।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি মুজিব বাহিনীর অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার প্রধানের একজন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।

সংসদ সদস্য থেকে মন্ত্রী 

তোফায়েল আহমেদ বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির অন্যতম অভিজ্ঞ নেতা ছিলেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তিনি ১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে সংসদীয় যাত্রা শুরু করেন।

পরবর্তীতে ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা থেকে নির্বাচিত হন। ফলে তিনি মোট নয়বার জাতীয় সংসদের সদস্য হওয়ার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেন। সর্বশেষ তিনি ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তোফায়েল আহমেদ।

পরে ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দেশের বাণিজ্যনীতি, রপ্তানি খাত এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

কারাজীবন ও রাজনৈতিক সংগ্রাম

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার বিভিন্ন সময়ে তাকে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়েছে। রাজনৈতিক কারণে ১৯৭৫ সাল থেকে টানা ৩৩ মাসসহ জীবনের বিভিন্ন সময়ে বহুবার কারাগারে থাকতে হয়েছে তাকে।

তবে রাজনৈতিক প্রতিকূলতা কখনোই তার সক্রিয় রাজনৈতিক জীবনকে থামিয়ে রাখতে পারেনি।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তি

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রাম, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সহযাত্রী হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনা এবং পরবর্তী সংসদীয় রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় তোফায়েল আহমেদ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে।

ভিওডি বাংলা/এমএস

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
শিশু রামিসার বাবাকে হাসপাতালে দেখতে বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক
শিশু রামিসার বাবাকে হাসপাতালে দেখতে বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক
বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন
বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন
জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের ক্ষোভ, সামর্থ্য বিবেচনার আহ্বান
জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের ক্ষোভ, সামর্থ্য বিবেচনার আহ্বান