• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

বাংলাদেশ ও নজরুল এক অবিভাজ্য সত্তা: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২৫ মে ২০২৬, ০১:১৮ পি.এম.
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও কাজী নজরুল ইসলাম এক অবিভাজ্য সত্তা।

রোববার (২৪ মে) বিকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের পরম প্রিয়জন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁর চির-অম্লান স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। তাকে স্মরণ করছি অনিঃশেষ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে। কামনা করি তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত।

পোস্টে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের জাতীয় ইতিহাসের অবিস্মরণীয় নাম কাজী নজরুল ইসলাম। পরাধীন, পর্যুদস্ত ও পরাভূত জাতির ভাগ্যাকাশে তাঁর আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো এবং দিকনির্দেশক বাতিঘরের মতো। মুমূর্ষু জাতিকে জাগিয়ে তোলা এবং সামগ্রিকভাবে সচেতন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করার জন্য যে সর্বপ্লাবী প্রতিভার প্রয়োজন ছিল, জাতীয় কবি ছিলেন সেই বহুল কাঙ্ক্ষিত প্রতিভা।

তিনি আরও বলেন, কাজী নজরুল ইসলামের পুরো জীবনটাই ছিল যেন এক যুদ্ধ ঘোষণা এবং এক অনন্য বিদ্রোহ। এই বিদ্রোহ ছিল ঔপনিবেশিক শাসন, পরাধীনতা, জুলুম, নির্যাতন, শোষণ, অসাম্য, বৈষম্য, কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে সকল অন্যায়, অবিচার ও অসুন্দরের বিরুদ্ধেও তিনি ছিলেন সোচ্চার।

প্রধানমন্ত্রী তার পোস্টে উল্লেখ করেন, মানুষ, মানবতা, স্বাধীনতা, শোষণমুক্ত সমাজ ও নারীমুক্তির জন্য নজরুলের চেয়ে বেশি শিল্পসফল শব্দ আর কেউ রচনা করতে পারেননি। তিনিই উপমহাদেশের প্রথম কবি, সাংবাদিক ও রাজনীতিক যিনি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি তুলেছিলেন। জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে মানুষের প্রতি তার দরদ ও দীপ্ত অঙ্গীকার ছিল তুলনাহীন।

মাতৃভূমিকে ভালোবাসার ক্ষেত্রেও নজরুলকে অন্যতম প্রধান দিশারি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের জীবন, আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন, সংগ্রাম, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য তাঁর রচনার মধ্যে মহিমাময় সৌন্দর্যে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। তার সৃষ্টিশীলতার মধ্যে সকল কালের সকল মানুষের জন্য আতিথ্য রয়েছে। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষেত্রে তিনি আমাদের প্রধান পাথেয়। তার প্রাসঙ্গিকতা ও প্রয়োজন কখনো ফুরানোর নয়।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তার কবিতা ও গান যেমন ছিল অনুপ্রেরণার প্রবল উৎস, তেমনই আমাদের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর সৃষ্টিশীলতাই হয়ে ওঠে প্রতিবাদ প্রতিরোধের মূল ভাষা। তিনি আমাদের যাপিত জীবনের অনিবার্য অংশ। বাংলা কাব্য-সংগীতে তাঁর আবির্ভাব ছিল ধূমকেতুর মতো বিস্ময়কর ও অভূতপূর্ব। মাত্র দুই দশকের সাধনা দিয়ে তিনি জাতিকে করে গেছেন আত্মপ্রত্যয়মণ্ডিত। নির্মাণ করে দিয়ে গেছেন জাতীয় সাহিত্য-সংস্কৃতির পাটাতন। সত্যিকার অর্থেই তিনি জাতীয় রেনেসাঁর নিশানবরদার। আবার তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি হয়েও সারা পৃথিবীর নিঃস্ব, রিক্ত মজলুম মানুষের আত্মার আত্মীয়।

পোস্টের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও কাজী নজরুল ইসলাম এক অবিভাজ্য সত্তা। তিনি বিশ্ব কবিসভারও গুরুত্বপূর্ণ নায়ক। তিনি আমাদের জাতীয় সত্তার সার্থক প্রতিনিধি, আমাদের জাতীয় চেতনার প্রতীক। আমাদের জাতীয়তাবাদের পথিকৃৎ। জাতীয় কবির জন্মদিনে আমরা অন্যায়, অবিচার, ক্ষুধা, দারিদ্র ও বিভেদের গ্লানি মুছে ফেলে সবার আগে বাংলাদেশকে ধারণ করে, আমাদের স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে, সুখী-সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক মাতৃভূমির জন্য নিজেদের নিবেদিত করাই হোক আমাদের প্রত্যয়।

ভিওডি বাংলা/সবুজ/আ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এডিবি প্রেসিডেন্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এডিবি প্রেসিডেন্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ
জামিনে মুক্ত এনসিপি নেতা তারেক রেজা
জামিনে মুক্ত এনসিপি নেতা তারেক রেজা
নজরুলের চেতনায় জনগণের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করছে সরকার: রিজভী
নজরুলের চেতনায় জনগণের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করছে সরকার: রিজভী