• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

মিনায় পৌঁছেছেন হাজিরা, মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২৫ মে ২০২৬, ০১:৩৯ পি.এম.
ইহরামের পোশাকে মিনার পথে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হজযাত্রীদের ঢল। ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে সৌদি আরবের মক্কা নগরীর নিকটবর্তী মিনা প্রান্তরে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লাখো মুসল্লি ইতোমধ্যে ‘তাবুর নগরী’ হিসেবে পরিচিত মিনায় পৌঁছেছেন। 

রোববার (২৪ মে) রাত থেকে ধাপে ধাপে হাজিরা মিনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। 

ইসলামী শরীয়তের বিধান অনুযায়ী, ৮ জিলহজ মিনায় অবস্থানের মধ্য দিয়েই হজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। হাজিরা সেখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন এবং রাতযাপন করবেন। পরদিন ৯ জিলহজ ফজরের পর তারা আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে রওনা হবেন। হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত আরাফাতে অবস্থানকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হয়ে হাজিরা জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন। এরপর সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা দোয়া, ইবাদত ও মোনাজাতে সময় কাটাবেন। ইসলাম ধর্মে আরাফাতে অবস্থানকে হজের মূল স্তম্ভ হিসেবে ধরা হয়। তাই বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের মধ্যে এ দিনকে ঘিরে বিশেষ আবেগ ও ধর্মীয় অনুভূতি কাজ করছে।

চলতি বছরের হজের খুতবা প্রদান করবেন মসজিদে নববীর প্রধান ইমাম ও খতিব শায়েখ আলি বিন আবদুল রহমান আল-হুদাইফি। তার খুতবা শুনতে এবং আরাফাতের ঐতিহাসিক মুহূর্তে অংশ নিতে লাখো মুসল্লির সমাগম ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরাফাত থেকে সূর্যাস্তের পর হাজিরা মুজদালিফায় রওনা দেবেন। সেখানে তারা খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করবেন। একই সঙ্গে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করবেন। মুজদালিফায় অবস্থানের সময় হাজিরা জামরায় নিক্ষেপের জন্য কঙ্কর সংগ্রহ করবেন।

পরদিন ১০ জিলহজ ফজরের আগে বা সূর্যোদয়ের সময় মুজদালিফা থেকে আবার মিনায় ফিরবেন হাজিরা। সেখানে বড় জামরায় কঙ্কর নিক্ষেপের মাধ্যমে শয়তানকে প্রতীকীভাবে প্রত্যাখ্যান করা হবে। এরপর আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কুরবানি করবেন মুসল্লিরা। কুরবানি শেষে অনেক হাজি মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করার আনুষ্ঠানিকতা পালন করবেন। এরপর তারা পবিত্র কাবা শরিফে গিয়ে তাওয়াফ ও সাঈ সম্পন্ন করবেন।

হজের বাকি আনুষ্ঠানিকতা ১১ ও ১২ জিলহজ পর্যন্ত চলবে। এ সময় হাজিরা মিনায় অবস্থান করে তিনটি জামরায় কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন। অধিকাংশ হাজি ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগেই মিনা ত্যাগ করবেন। তবে কেউ চাইলে অতিরিক্ত একদিন অবস্থান করেও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পারবেন।

চলতি বছর হজে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১৬ থেকে ১৮ লাখ মুসল্লি হজ পালন করতে সৌদি আরবে সমবেত হয়েছেন। বাংলাদেশ থেকেও প্রায় সাড়ে ৭৮ হাজার হজযাত্রী সৌদি আরবে গেছেন।

হজকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করেছে সৌদি প্রশাসন। দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, হজের পবিত্র স্থানগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। বিশেষ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল মনসুর বিন নাসের আল-ফায়েজ মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন।

তিনি জানান, হাজিদের নির্বিঘ্নে ইবাদত পালনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্বাস্থ্য বিভাগ, পরিবহন ও সেবামূলক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে। হাজিদের নিরাপত্তা, যাতায়াত ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা ও উন্নত সমন্বয়ের কারণে এ বছর হজ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হয়েছে। তীব্র গরমের বিষয়টি মাথায় রেখে হাজিদের জন্য ছায়াযুক্ত পথ, ঠান্ডা পানির ব্যবস্থা ও জরুরি চিকিৎসাসেবা বাড়ানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১৬ লাখ ৭৩ হাজার ৩২০ জনের বেশি মুসল্লি হজ পালন করেছিলেন। এবার হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগেই আগত হাজিদের সংখ্যা সেই পরিসংখ্যান অতিক্রম করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে এবারের হজ আয়োজন সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহৎ সমাবেশে পরিণত হতে যাচ্ছে।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
সোমবার জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি সভা
সোমবার জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি সভা
মসজিদে নববিতে কাজের সুযোগ, আবেদন করবেন যেভাবে
মসজিদে নববিতে কাজের সুযোগ, আবেদন করবেন যেভাবে
হজে গিয়ে আরও ২ বাংলাদেশির মৃত্যু
হজে গিয়ে আরও ২ বাংলাদেশির মৃত্যু