টাকা দিয়ে মীমাংসার প্রস্তাব, ধর্ষণের শিকার কিশোরীর গলায় ফাঁস

নরসিংদীর সদর উপজেলায় ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় সালিশ বৈঠকে বিয়ের পরিবর্তে টাকার বিনিময়ে মীমাংসার প্রস্তাব ওঠার পর ক্ষোভে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে এক কিশোরী।
অভিযোগ উঠেছে, সালিশে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের পাশাপাশি একজন পুলিশ সদস্যও উপস্থিত ছিলেন।
শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের সোনাতলা চকপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর অবস্থায় ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে তার চিকিৎসা চলছে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, সালিশে বিয়ের পরিবর্তে ২০ হাজার, ৩০ হাজার এবং পরে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব ওঠে। এ খবর শুনেই কিশোরী ঘরের দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস দেয়। পরে পরিবারের সদস্যরা দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবার জানায়, পাশের শিবপুর উপজেলায় বিয়ে হয়েছিল ওই কিশোরীর। বিয়ের পর থেকেই প্রতিবেশী প্রাইভেটকার চালক নাইম তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখাতে থাকে। একপর্যায়ে কিশোরীকে স্বামীর সংসার থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিয়ে আসে এবং বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ পরিবারের।
ঘটনাটি জানাজানি হলে কিশোরী ও তার পরিবার নাইমকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। কিন্তু নাইম বিয়েতে অস্বীকৃতি জানালে পরিবার আইনি সহায়তা নিতে চাইলে স্থানীয় বিএনপি নেতারা সালিশের মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দেন।
পরে শুক্রবার বিকেলে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে জেলা বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও চিনিশপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আউলাদ হোসেন মোল্লা, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাজহারুল হক টিটু, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন খোকা, ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আমজাদ হোসেন এবং যুবদল নেতা জাহাঙ্গীরসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। এছাড়া বৈঠকে এসআই মো. ইউনুস নামে এক পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীর মা বলেন, ‘নাইম আমার মেয়ের সংসার ভেঙেছে। এক বছর ধরে বিয়ের প্রলোভনে আমার মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। আজ দরবারে বিয়ের কথা না বলে টাকার বিনিময়ে মীমাংসার কথা বলা হয়। এই অপমান সইতে না পেরে আমার মেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, আগে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো বিচার পাননি।
অভিযুক্ত নাইম একই এলাকার শফিকুলের ছেলে। তিনি পেশায় প্রাইভেটকার চালক।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও চিনিশপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আউলাদ হোসেন মোল্লা বলেন, ‘আমি অল্প সময়ের জন্য সেখানে গিয়েছিলাম। পরে শুনেছি, সালিশ বোর্ডের অধিকাংশ সদস্য বিয়ের পক্ষে মত দিয়েছেন। কেউ টাকা দিয়ে সমাধানের কথা বললে মেয়েটি আত্মহত্যার চেষ্টা করে।’
ধর্ষণের মতো অভিযোগ সালিশযোগ্য কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘উভয় পক্ষের অনুরোধে আমি সেখানে গিয়েছিলাম।’
নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘ফাঁস নেওয়া অবস্থায় অচেতন এক কিশোরীকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।’
চিনিশপুর ইউনিয়নের বিট অফিসার মো. ইসহাক মিয়া বলেন, ‘সালিশে তিনি উপস্থিত ছিলেন না, তবে এসআই মো. ইউনুস সেখানে ছিলেন বলে শুনেছেন। যদিও এসআই ইউনুস নিজের উপস্থিতির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।’
নরসিংদী মডেল থানার ওসি এমআর আল মামুন বলেন, ‘সালিশে পুলিশের কোনো সদস্য ছিল না। আমরা একটি মৌখিক অভিযোগ পেয়েছিলাম, তবে লিখিত অভিযোগ পাইনি।’
ভিওডি বাংলা/এমএস







