সামরিক শক্তি ফিরে পাচ্ছে ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে দ্রুত কাজ করছে ইরান। একই সঙ্গে আবারও ড্রোন উৎপাদন শুরু করেছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা পর্যালোচনার সঙ্গে যুক্ত দুটি সূত্র এবং গোয়েন্দা তথ্যের ব্যাপারে অবগত মোট চারটি সূত্র সিএনএনকে নিশ্চিত করেছে যে প্রাথমিক ধারণার চেয়ে অনেক দ্রুতগতিতে নিজেদের সামরিক বাহিনীকে পুনর্গঠন করছে ইরান।
সিএনএন এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরান যেভাবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুনরুদ্ধারে এগিয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা মহলকে বিস্মিত করেছে। কারণ, তাদের পূর্ববর্তী ধারণা ছিল এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় আরও বেশি সময় লাগবে।
পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ধ্বংস হওয়া মিসাইল ঘাঁটি, লঞ্চার এবং গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলো নতুন করে গড়ে তোলা হচ্ছে। এর অর্থ হলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি আবার বোমা হামলা শুরু করেন, তবে ইরান এই অঞ্চলে ওয়াশিংটনের মিত্রদের জন্য একটি বড় হুমকি হয়েই থাকবে।
একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা দীর্ঘ মেয়াদে ইরানের সামরিক বাহিনীকে কতটা দুর্বল করতে পেরেছে, তা নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে-গোয়েন্দা হিসাব অনুযায়ী, ইরান মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই তাদের ড্রোন হামলার সক্ষমতা পুরোপুরি ফিরে পেতে পারে; যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদের জন্য ড্রোন হামলা একটি বড় উদ্বেগের বিষয়।
গোয়েন্দা সূত্রগুলো সিএনএন-কে জানায়, এই সময়সীমা এতটা কমে আসার পেছনে আংশিক কারণ হলো রাশিয়া ও চীনের কাছ থেকে ইরানের পাওয়া সহায়তা। তাদের অভিযোগ, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বেইজিং এই ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটিকে ক্ষেপণাস্ত্রের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে আসছে। তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এই প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তবে পেন্টাগনের একজন মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেছেন, সামরিক বাহিনীর কাছে ‘প্রেসিডেন্টের বেছে নেওয়া সময় ও স্থানে যেকোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি রয়েছে’।
ট্রাম্প বারবার হুমকি দিয়েছেন, যুদ্ধ অবসানে চুক্তি না হলে তিনি আবার সামরিক অভিযান শুরু করবেন। এমনকি মঙ্গলবার তিনি প্রকাশ্যে এও বলেছিলেন যে তিনি বোমা হামলা শুরু করার থেকে মাত্র এক ঘণ্টা দূরে ছিলেন। অর্থাৎ, যেকোনো মুহূর্তে ইরানের এই সামরিক সক্ষমতা কাজে লাগানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
তবে মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পবিত্র হজের সময় যুদ্ধ আবার শুরু না করতে উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদেশসহ নিজ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সতর্কতার পর ইরানে পরিকল্পিত হামলা পিছিয়ে দেন ট্রাম্প।
উপসাগরীয় অঞ্চলের দুজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান ট্রাম্পকে বলা হয়েছিল, হজের সময় ইরানে হামলা চালালে উপসাগরীয় দেশগুলোতে সংকট তৈরি হতে পারে। ঈদুল আজহার আগে এই পবিত্র সময়ে ইরানে হামলা চালালে মুসলিম বিশ্বে ওয়াশিংটনের ভাবমূর্তি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও ট্রাম্পকে সতর্ক করা হয়।
ট্রাম্প-নেতানিয়াহু উত্তপ্ত ফোনালাপ : ইরানের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে এক উত্তপ্ত ফোনালাপ হয়েছে। গত মঙ্গলবারের এই ফোনালাপ দুই দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যে বড় ধরনের নীতিগত মতপার্থক্যকে আবারও সামনে এনেছে।
এক ঘণ্টাব্যাপী ফোনালাপে নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বলেন, হামলা স্থগিত করা একটি বড় ভুল ছিল। একই সঙ্গে তিনি ট্রাম্পকে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সামরিক পদক্ষেপের জন্য তাগিদ দেন। এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা সিএনএন-কে বলেন, দুই নেতার মধ্যকার মতভেদ স্পষ্ট ছিল। ট্রাম্প দেখতে চাচ্ছেন কোনো চুক্তি করা সম্ভব কি না, কিন্তু নেতানিয়াহু অন্য কিছু আশা করছিলেন।
হরমুজ পাড়ি দিল ২৬টি জাহাজ
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) বলেছে, তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে ২৬টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আইআরজিসি নৌবাহিনীর অনুমতি এবং তদারকিতেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে এই জাহাজগুলো যাতায়াত করেছে।
একই দিন ইরানের ‘পার্সিয়ান গালফ স্টেট অথরিটি’ (পিজিএসএ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে। সেখানে একটি ‘নিয়ন্ত্রিত সামুদ্রিক অঞ্চল’ চিহ্নিত করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তেহরানের সুনির্দিষ্ট অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ এই এলাকা দিয়ে পার হতে পারবে না। এই নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলটি প্রণালির পূর্ব প্রবেশপথে ইরানের কুহ-ই মুবারক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহর দক্ষিণ পর্যন্ত এবং পশ্চিম প্রবেশপথে কেশম দ্বীপ থেকে উম্ম আল-কুওয়াইন পর্যন্ত বিস্তৃত।
ভিওডি বাংলা/এসআর







