পাকিস্তানে অভিযানে শীর্ষ কমান্ডারসহ নিহত ২৩ জঙ্গি

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে অন্তত ২৩ জঙ্গি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন শীর্ষ কমান্ডারও রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খাইবার পাখতুনখোয়ার দত্তা খেল, স্পিনওয়াম ও বান্নু এলাকায় গত ৪৮ ঘণ্টায় একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়, ধারাবাহিক অভিযানে জঙ্গিদের বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে কার্যকর হামলা চালানো হয়েছে। তীব্র গোলাগুলির পর ভারত-সমর্থিত ‘ফিতনা আল খাওয়ারিজ’ গোষ্ঠীর আরও ২৩ সদস্য নিহত হয়েছে।
পাকিস্তানে ‘ফিতনা আল খাওয়ারিজ’ শব্দটি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের সদস্যদের বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ শব্দটি বেলুচিস্তানে সক্রিয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে জান মীর নামের এক শীর্ষ কমান্ডারও রয়েছেন, যিনি তোওর সাকিব নামেও পরিচিত ছিলেন। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, তার মৃত্যু ওই অঞ্চলে সক্রিয় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা।
জান মীর নিরাপত্তা বাহিনীর ওয়ান্টেড তালিকাভুক্ত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সরকার পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল। এসব ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ নাগরিক হত্যার অভিযোগও ছিল।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, অভিযানের সময় জঙ্গিদের ব্যবহৃত জটিল ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ ও বাঙ্কার শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া নিহতদের কাছ থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক এবং বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব এলাকায় লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের নির্মূলে অভিযান অব্যাহত থাকবে। দেশের সন্ত্রাসবিরোধী কর্মসূচি ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’-এর আওতায় নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো পূর্ণগতিতে অভিযান চালিয়ে যাবে। বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ দমনে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এদিকে ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিপুলসংখ্যক জঙ্গি নিহত হলেও ২০২৫ সালে পাকিস্তানে সহিংসতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ইসলামাবাদভিত্তিক একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে সন্ত্রাসী হামলা ৩৪ শতাংশ বেড়েছে এবং সন্ত্রাস-সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ২১ শতাংশ।
বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়ায় হামলার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একটি নিরাপত্তা গবেষণা সংস্থার তথ্যমতে, ২০২৪ সালে সেখানে নিহতের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬২০ জন। আর ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৩১ জনে।
ভিওডি বাংলা/এমএস







