মে মাসের শেষেই ভারতে আগাম বর্ষার পূর্বাভাস

ভারতের উত্তর-পশ্চিম, মধ্য ও পূর্বাঞ্চলজুড়ে চলছে তীব্র তাপদাহ। প্রচণ্ড গরমের কারণে ভারতের আবহাওয়া দফতর (আইএমডি) এসব অঞ্চলে রেড ও অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করেছে। মূল ভূখণ্ডের তাপমাত্রা এখন ৪৪ থেকে ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। উত্তর প্রদেশ ও রাজস্থানে তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।
এ ছাড়া দিল্লির আকাশ থেকে যেন আগুন ঝরছে; পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং হিমাচল প্রদেশও তীব্র রোদ ও উত্তর-পশ্চিমের মরুভূমি থেকে আসা শুষ্ক তপ্ত বাতাসে পুড়ছে। তবে এই চরম অস্বস্তির মধ্যেই স্বস্তির খবর দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। তারা জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু মে মাসের শেষের দিকেই দেশের দক্ষিণ উপকূলে আঘাত হানতে পারে।
ভারতের বার্ষিক বৃষ্টিপাতের ৭০ শতাংশই আসে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর মাধ্যমে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৬ মে নাগাদ কেরালা উপকূলে বর্ষা প্রবেশ করতে পারে, যা সাধারণত জুনের ১ তারিখে আসার কথা। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক সপ্তাহ আগেই এবার বর্ষার আগমন ঘটছে।
ইতোমধ্যে গত ১৬ মে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বর্ষা প্রবেশ করেছে এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকাগুলো এই ভারী বর্ষণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। কেরালায় পৌঁছানোর পর দেশের বাকি অংশে বর্ষা ছড়িয়ে পড়তে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। মহারাষ্ট্র ও মুম্বাইতে আগামী ২ থেকে ৫ জুনের মধ্যে বর্ষার বৃষ্টি দেখা যেতে পারে। আর দিল্লি ও উত্তর ভারতের বেশিরভাগ অংশে জুনের শেষ নাগাদ বর্ষা পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আগাম বর্ষার পূর্বাভাস থাকলেও এবার স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের শঙ্কা রয়েছে। আইএমডি-র দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবারের মৌসুমে মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ দীর্ঘমেয়াদি গড় বৃষ্টিপাতের তুলনায় প্রায় ৯২ শতাংশ হতে পারে। অন্যদিকে বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা স্কাইমেট এই পূর্বাভাস ৯৪ শতাংশ বলে উল্লেখ করেছে।
উভয় সংস্থাই জানিয়েছে, মে থেকে জুলাই মাসের মধ্যে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরে একটি শক্তিশালী এল নিনো সক্রিয় হয়ে ওঠার কারণেই বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম হবে। বর্ষার প্রথমার্ধ অর্থাৎ জুন ও জুলাই মাসে বৃষ্টিপাত তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে এল নিনো চরম রূপ ধারণ করায় বর্ষার দ্বিতীয়ার্ধে বৃষ্টিপাতের মূল ঘাটতি দেখা দেবে।
ভিওডি বাংলা/এসআর







