মাদকবিরোধী সংগঠনের আড়ালে ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

তথাকথিত “স্বাধীন বাংলা মাদকবিরোধী কল্যাণ সোসাইটি” নাম ব্যবহারকারী একটি সংগঠন ও এর সভাপতি সেলিম নিজামীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার, চাঁদাবাজি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। সংস্থাটি বলেছে, তাদের নাম ও কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে একটি চক্র ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল ও অর্থ আদায়ের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
বুধবার (২০ মে) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “স্বাধীন বাংলা মাদকবিরোধী কল্যাণ সোসাইটি” নামীয় সংগঠনটি ডিএনসি কর্তৃক অনুমোদিত বা নিবন্ধিত নয়। সংগঠনটির বিভিন্ন প্রচারণামূলক কর্মসূচিতে অধিদপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম ও ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা হয়েছে, যা অনৈতিক ও আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।
ডিএনসি দাবি করেছে, সংগঠনটির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময় অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম ও ছবি ব্যানারে ব্যবহার করে মানববন্ধন ও অপপ্রচারমূলক কর্মসূচি পালন করে। পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম বা ছবি সরিয়ে নেওয়ার জন্য অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির শামিল।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, উক্ত সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লাইসেন্স বা অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা করে আসছিল। কিন্তু সংগঠনের নেপথ্য ব্যক্তি সেলিম নিজামীর বিরুদ্ধে অতীত ও সাম্প্রতিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকায় এবং প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
ডিএনসি জানায়, সংগঠনটি বিভিন্ন সময়ে মাদকবিরোধী প্রচারণার নামে অধিদপ্তরের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা চেয়েও ব্যর্থ হয়। এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে তারা অধিদপ্তরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে সেলিম নিজামীর বিরুদ্ধে অতীতে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়। সেখানে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২১ মার্চ দৈনিক সমকালে প্রকাশিত “তারা সাংবাদিক নন সাংঘাতিক” শীর্ষক প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠে আসে। এছাড়া ২০১৯ সালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় কথিত সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলায়ও তার নাম আসে বলে উল্লেখ করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বলেছে, কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী “মাদকবিরোধী সংগঠন” কিংবা “সাংবাদিক” পরিচয় ব্যবহার করে অধিদপ্তরের নাম, লোগো ও কর্মকর্তাদের পরিচয় ভাঙিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদাবাজি করছে। এ ধরনের প্রতারক চক্র সম্পর্কে জনগণ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ডিএনসি আরও জানিয়েছে, সরকারি আইন, বিধি ও নীতিমালার আওতায় পরিচালিত কার্যক্রম ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনকে অধিদপ্তরের সহযোগী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। একইসঙ্গে অধিদপ্তরের নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, অপপ্রচার, চাঁদাবাজি বা জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
ভিওডি বাংলা/এমআই/আ







