• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২০ মে ২০২৬, ০৮:৫৭ এ.এম.
ছবি : সংগৃহীত

নতুন অর্থবছরের শুরু থেকেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে এ কাঠামো কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কমিটি তিন ধাপে বেতন কাঠামো কার্যকর করার প্রস্তাব দিয়েছে। প্রথম দুই অর্থবছরে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ করে বৃদ্ধি এবং তৃতীয় ধাপে বিভিন্ন ভাতা সমন্বয়ের সুপারিশ করা হয়েছে।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নীতিগতভাবে এ প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন। নতুন কাঠামোর প্রথম ধাপ বাস্তবায়নে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অতিরিক্ত ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কমিশন গঠন করা হয়। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত ২৩ সদস্যের কমিশন চলতি বছরের জানুয়ারিতে তাদের সুপারিশ জমা দেয়। পরে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত এপ্রিল মাসে নতুন করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিই ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ চূড়ান্ত করে।

কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। বর্তমান কাঠামোর মতো ২০টি গ্রেড বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সিনিয়র সচিবদের জন্য বিদ্যমান গ্রেডের বাইরে আলাদা উচ্চধাপ রাখার বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে। এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পরে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হতে পারে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মূল বেতন বাড়লে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতার পরিমাণও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বৈশাখী ভাতা পেয়ে থাকলেও নতুন প্রস্তাবে তা বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া যাতায়াত ভাতার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনার সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা এ সুবিধা পেলেও নতুন কাঠামোয় ১০ম গ্রেড পর্যন্ত তা সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

শুধু কর্মরত চাকরিজীবীরাই নন, পেনশনভোগীরাও নতুন কাঠামোর আওতায় বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, মাসিক ২০ হাজার টাকার নিচে পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন প্রায় দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।

অন্যদিকে মাসে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ রয়েছে। তবে আগামী অর্থবছরে এ খাতে কতটুকু বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হবে, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

বয়স্ক পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে। সুপারিশ অনুযায়ী, ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনভোগীরা মাসিক ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা ভাতা পেতে পারেন। এছাড়া ৫৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সী পেনশনভোগীদের জন্য ৮ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

ভিওডি বাংলা/জা

 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ডিজিটাল সক্ষমতা ছাড়া রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়ন ঝুঁকিতে পড়বে : তথ্যমন্ত্রী
ডিজিটাল সক্ষমতা ছাড়া রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়ন ঝুঁকিতে পড়বে : তথ্যমন্ত্রী
সমাজের প্রতিটি স্তরের অসমতা দূর করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের : স্পিকার
সমাজের প্রতিটি স্তরের অসমতা দূর করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের : স্পিকার
গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে কাজ করছে সরকার : তারেক রহমান
গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে কাজ করছে সরকার : তারেক রহমান