• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

উপাচার্য নিয়োগে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন, দলীয় প্রভাবের অভিযোগ ছাত্রশিবিরের

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৬ মে ২০২৬, ০১:০৪ এ.এম.
ছবি: সংগৃহীত

দেশের শীর্ষস্থানীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একযোগে নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগের ক্ষেত্রে অ্যাকাডেমিক নিরপেক্ষতা ও আইনি বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করে রাজনৈতিক আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। 

শুক্রবার (১৫ মে) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এই প্রতিক্রিয়া জানান।

বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের নেতারা বলেন, চব্বিশের ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানে দেড় সহস্রাধিক শহীদের রক্ত ও হাজারো ছাত্র-জনতার ত্যাগের মূল লক্ষ্যই ছিল দেশ থেকে সব ধরনের ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটানো এবং শিক্ষা খাতকে লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির অভিশাপ থেকে মুক্ত করা। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক গত ১৪ মে জারি করা প্রজ্ঞাপনে সেই গণআকাঙ্ক্ষাকে সম্পূর্ণ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়েছে। কোনো মেধাভিত্তিক সার্চ কমিটির মাধ্যমে এই নিয়োগ হয়নি, বরং ক্ষমতাসীন দলের শিক্ষক প্যানেল ‘সাদা দল’ এবং ‘জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম’-এর সক্রিয় সংগঠকদের স্রেফ রাজনৈতিক বিবেচনায় এই শীর্ষ পদে বসানো হয়েছে।

নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ভিসিদের কারও কারও বিরুদ্ধে ওঠা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও চারিত্রিক স্খলনের অকাট্য তথ্য দেশের সচেতন ছাত্রসমাজকে স্তব্ধ করেছে। নিয়োগপ্রাপ্তদের কারও ছাত্রজীবন কেটেছে ছাত্র হত্যার মতো জঘন্য ফৌজদারি অপরাধের অভিযুক্ত হিসেবে, আবার কারও পুরো শিক্ষাজীবনে কোনো প্রথম শ্রেণি না থাকা সত্ত্বেও তাদের শীর্ষ পদে বসানো হয়েছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি’র তদন্তে যৌন নির্যাতনের প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হওয়া এবং অধস্তন নারী কর্মচারীর সঙ্গে গুরুতর চারিত্রিক স্খলনের দায়ে তদন্তের সম্মুখীন হওয়া শিক্ষকরাও ভিসির আসনে বসেছেন। এছাড়া দলীয় কোটা পূরণ করতে গিয়ে বিশেষায়িত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ডের দলীয় অনুগতদের উপাচার্য করা হয়েছে।

শিবির নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অতীতে যেভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দলীয় কার্যালয়ে পরিণত করে উচ্চশিক্ষাকে ধ্বংস করা হয়েছিল, বর্তমানেও একই কায়দায় দলীয় বলয়ের শিক্ষকদের ঢালাওভাবে পুরস্কৃত করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে রাজনৈতিক পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত করছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন ও গবেষণার আন্তর্জাতিক মান পুরোপুরি ধসে পড়বে। দলীয় বিবেচনায় এবং আইনি বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করে ঘোষিত এই বিতর্কিত ভিসি নিয়োগের প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে বাতিল করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ। অন্যথায় সচেতন ছাত্রসমাজ কোনো অন্যায্য সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না বলে তাঁরা সতর্ক করেন এবং দেশবাসীকে এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

ভিওডি বাংলা/বিন্দু

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
সাড়ে ১৫ বছরে বিদেশি ঋণের ৮০ শতাংশ নিয়েছে আ. লীগ সরকার
সাড়ে ১৫ বছরে বিদেশি ঋণের ৮০ শতাংশ নিয়েছে আ. লীগ সরকার
১৬ মে রাজশাহীতে ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশ
১৬ মে রাজশাহীতে ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশ
চট্টগ্রামে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাজা সম্পন্ন
চট্টগ্রামে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাজা সম্পন্ন