ডেঙ্গু পরিস্থিতি জানতে ১০ দিনের বিশেষ জরিপ শুরু করেছে ডিএসসিসি

রাজধানীতে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধে প্রাকবর্ষা এডিস মশার লার্ভা জরিপ কার্যক্রম শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
এই জরিপের মাধ্যমে রাজধানীর কোন কোন এলাকায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেশি এবং কোথায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ রয়েছে, তা চিহ্নিত করা হবে বলে জানিয়েছেন ডিএসসিসি প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
রোববার (১০ মে) ডিএসসিসির বুড়িগঙ্গা হলরুমে আয়োজিত বর্ষা পূর্ব এডিস মশার লার্ভা জরিপ কার্যক্রম ২০২৬ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুস সালাম বলেন, গত কয়েক বছরে ডেঙ্গু বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সংক্রমণের রূপ নিয়েছে। এটি এখন জনজীবনের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই দেশের মানুষকে এ ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার লক্ষ্যে কাজ চলছে। তারই অংশ হিসেবে এ জরিপ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ঢাকা শহরে রোগটির উৎপত্তিস্থল চিহ্নিত করা অত্যন্ত জরুরি। কোন কোন এলাকায় এর প্রাদুর্ভাব বেশি, তা সঠিকভাবে শনাক্ত করা গেলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। এতে রোগ ছড়িয়ে পড়ার আগেই অঙ্কুরেই তা প্রতিরোধ করা যাবে।
জরিপ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এটি মানুষের জীবন-মরণের প্রশ্ন। কোনো এলাকায় না গিয়ে মনগড়া রিপোর্ট দেওয়া শুধু দায়িত্বে অবহেলা নয়, মানুষের জীবন নিয়ে খেলার সামিল। তাই সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি জানান, প্রথমে ৫০টি ওয়ার্ডে জরিপের পরিকল্পনা থাকলেও পরে তা বাড়িয়ে ৭৫টি ওয়ার্ডে নেওয়া হয়েছে। এতে একটি পূর্ণাঙ্গ ও মানসম্মত জরিপ প্রতিবেদন তৈরি করা সম্ভব হবে।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ১০ দিনের এই কর্মসূচির আওতায় ৭৫টি ওয়ার্ডে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়িতে জরিপ চালানো হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ৩০টি করে বাড়িতে টিম যাবে। সংখ্যাটি খুব বেশি না হলেও এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও কার্যকর ধারণা পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, যেসব স্থানে লার্ভা বা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ পাওয়া যাবে, সেখানে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু রিপোর্ট তৈরি করলেই হবে না, সঙ্গে সঙ্গে লার্ভা ধ্বংস করা গেলে জরিপের পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমও এগিয়ে যাবে।
আবদুস সালাম বলেন, একসময় ম্যালেরিয়াসহ আরও অনেক রোগ মানুষের জীবনে বড় হুমকি ছিল। সময়ের সঙ্গে সেগুলো নিয়ন্ত্রণে এসেছে। একইভাবে ডেঙ্গুকেও নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। অন্তত চলতি বছর আক্রান্ত ও প্রাণহানির সংখ্যা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনাই আমাদের লক্ষ্য।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই কার্যক্রম সফল হলে জনজীবনে স্বস্তি ফিরে আসবে এবং মানুষ নতুন করে নিরাপত্তা ও আস্থা অনুভব করবে।
সভা শেষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিজেই রাজধানীর ভেটেরিনারি হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে হাসপাতাল প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্থানে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত করা হয়। বিষয়টি দেখে তিনি তাৎক্ষণিক অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এ সময় ডেঙ্গু প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা হিসেবে আক্রান্ত স্থানগুলোতে ঔষধ ছিটিয়ে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে জন্য নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মনিটরিং জোরদারের নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
ভিওডি বাংলা/জা







