{# Both bootstrap.min.css (190KB) and style.css (129KB) async-loaded via preload + onload swap. Inline critical CSS above covers above-the-fold. #} {# Third-party scripts: GA / ShareThis / Cloudflare on idle. AdSense is special — show_ads_impl_fy2021.js was eating 2.1s CPU, so it loads ONLY when an ad slot is near the viewport. #}
  • ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

এলপিজির দাম বাড়ছেই, দিশেহারা সাধারণ মানুষ

ভিওডি বাংলা ডেস্ক    ১০ মে ২০২৬, ০২:১২ পি.এম.
ছবি : সংগৃহীত

দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় যখন লাগামহীন, তখন রান্নার গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম সরকারি হিসেবেই বেড়েছে প্রায় ৪৩ শতাংশ। গত ফেব্রুয়ারিতে যে সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৩৫৬ টাকা, বর্তমানে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) তা নির্ধারণ করেছে ১ হাজার ৯৪০ টাকা। তবে বাজারের বাস্তব চিত্র আরো ভয়াবহ। 

বিইআরসি প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দর ঘোষণা করলেও সাধারণ ভোক্তাদের বাজারে গিয়ে গুনতে হচ্ছে বাড়তি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। ফলে ১ হাজার ৯৪০ টাকার সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ২ হাজার ২০০ টাকারও বেশি দামে। কিছু অসাধু ও অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত দাম তোয়াক্কা না করে বাড়তি দাম রাখায় এখন সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।

রবিবার (১০ মে) রাজধানীর রায়েরবাজার, নিউমার্কেট ও কারওয়ানবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকার নির্ধারিত দামে বাজারে মিলছে না এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস। এছাড়াও এখনো বাজারে এলপিজি'র সংকট কিছুটা রয়েছে।

রাজধানীর রায়েরবাজারে বাসার জন্য ১২ কেজির সিলিন্ডারের গ্যাস নিতে আসা এক গৃহিণী বলেন, “গত ফেব্রুয়ারিতেও ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায় গ্যাস কিনতাম, এখন দোকানে গেলেই ২ হাজার ২০০ টাকা চায়।  অথচ শুনি সরকারি দাম নাকি ১ হাজার ৯৪০ টাকা। আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের জন্য তিন মাসে গ্যাসের দাম এভাবে ৪৩ শতাংশ বেড়ে যাওয়া মানে হলো- সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়া। রান্নার খরচ জোগাতে গিয়ে এখন খাবারের তালিকা ছোট করতে হচ্ছে।”

আরেক ব্যক্তি বলেন, “গত তিন মাসে তো আমার বেতন এক টাকাও বাড়েনি, কিন্তু গ্যাসের পেছনেই মাসে বাড়তি ৭০০-৮০০ টাকা চলে যাচ্ছে। বিইআরসি প্রতি মাসে কিসের দাম নির্ধারণ করে তা আমরা বুঝি না, কারণ বাজারে কখনোই সেই দামে গ্যাস পাওয়া যায় না। ডিলার আর খুচরা বিক্রেতারা সিন্ডিকেট করে আমাদের পকেট কাটছে, দেখার কেউ নেই। এখন রান্না করে খাওয়া জন্য অন্য জায়গায় থেকে খরচ কাটছাঁট করতে হচ্ছে।”

উত্তরার দক্ষিণখানের এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা বিক্রেতা ওসমান বলেন, “মানুষ আমাদের কথা শোনায়, কিন্তু আমাদের কিছু করার নেই।  কোম্পানি থেকে আমাদের যে দামে কিনতে হয়, তার সঙ্গে পরিবহন খরচ যোগ করলে বিইআরসির নির্ধারিত দামে বিক্রি করা সম্ভব না। আমরাই বেশি দামে কিনছি, তাই ১ হাজার ৯৪০ টাকায় গ্যাস বিক্রি করলে আমাদের লোকসান দিতে হবে। এর জন্য দায়ী হলো জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি।”

সর্বশেষ গত ১৯ এপ্রিল বিইআরসি এলপিজির মূল্য সমন্বয় করে। এতে প্রতি কেজিতে ১৭ টাকা ৬২ পয়সা দাম বৃদ্ধি করা হয়। সে হিসাবে ৫ দশমিক ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৮৮৯ টাকা, ১২ দশমিক ৫ কেজির ২ হাজার ২১ টাকা, ১৫ কেজির ২ হাজার ৪২৬ টাকা, ১৬ কেজির ২ হাজার ৫৮৭ টাকা, ১৮ কেজির ২ হাজার ৯১১ টাকা, ২০ কেজির ৩ হাজার ২৩৪ টাকা, ২২ কেজির ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা, ২৫ কেজির ৪ হাজার ৪৩ টাকা, ৩০ কেজির ৪ হাজার ৮৫১ টাকা, ৩৩ কেজির ৫ হাজার ৩৩৬ টাকা, ৩৫ কেজির ৫ হাজার ৬৬০ টাকা এবং ৪৫ কেজির ৭ হাজার ২৭৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক, জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন জানান, মাঠ পর্যায়ে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। কেন সরকারি দরের চেয়ে ৩০০ টাকা বেশি দামে ভোক্তাকে গ্যাস কিনতে হচ্ছে, তার জবাবদিহিতা কোম্পানি ও ডিলার উভয় পক্ষকেই দিতে হবে।  এছাড়া, ডলার সংকটের কারণে আমদানিতে কোনো জটিলতা হচ্ছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা দরকার। যদি দ্রুত এই সিন্ডিকেট ভাঙা না যায়, তবে সাধারণ মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।

ভিওডি বাংলা/এসআর


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ইস্টার্ন রিফাইনারিতে ২৩ দিন পর উৎপাদন শুরু
ইস্টার্ন রিফাইনারিতে ২৩ দিন পর উৎপাদন শুরু
আকুর দায় ১৫১ কোটি ডলার পরিশোধ, কমেছে রিজার্ভ
আকুর দায় ১৫১ কোটি ডলার পরিশোধ, কমেছে রিজার্ভ
আমদানি হচ্ছে আরো তিন কার্গো এলএনজি
আমদানি হচ্ছে আরো তিন কার্গো এলএনজি