• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

মুন্সীগঞ্জে হত্যা, নিউইয়র্কে ১৫ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৯ মে ২০২৬, ১২:১৯ এ.এম.
নিউইয়র্কে মার্কিন বিচার বিভাগের কার্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার শুলপুর গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে চাচা মাইকেল রোজারিওকে হত্যার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি আদালত ভাতিজা গ্যানেট রোজারিওকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। 

একই অপরাধে এ আসামিকে গত বছরের ১০ মার্চ মুন্সীগঞ্জ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক কাজী আবদুল হান্নান যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এ ছাড়াও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মাইকেল রোজারিওর শ্যালিকা সিরাজদিখান উপজেলার মজিদপুর গ্রামের মিলন রোজারিওর স্ত্রী মল্লিকা রোজারিও বাদী হয়ে সিরাজদিখান থানায় গ্যানেট রোজারিওকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছিলেন।

এ ছাড়াও সিরাজদিখান থানার এসআই আবুল কাশেম বাদী হয়ে ঘটনার পরের দিন একই থানায় অপর একটি অস্ত্র মামলা করেন। 
নিহত ও দণ্ডপ্রাপ্ত দুজনই মার্কিন নাগরিক।

গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস এলাকার বাসিন্দা ৫৪ বছর বয়সী গ্যানেট রোজারিও বাংলাদেশে তার চাচা মাইকেল রোজারিওকে হত্যার ঘটনায় আদালতে দোষ স্বীকার করেন। পরে আদালত তাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেন। 

আদালতের নথি ও আসামির জবানবন্দি অনুযায়ী, মুন্সীগঞ্জে পারিবারিক বসতভিটা নিয়ে চাচা-ভাতিজার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ২০২১ সালে তারা বাংলাদেশে এসে ওই বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ঘটনার দিন ২০২১ সালের ১১ জুন সন্ধ্যায় গ্যানেট রোজারিও চাচার শোবার ঘরের জানালার বাইরে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছিলেন। এসময় ঘরের ভেতর থেকে তাকে উদ্দেশ্য করে গালমন্দ শুনে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরে ঘরের ভেতর থেকে একটি শটগান এনে জানালার বাইরে থেকে গুলি ছোড়েন।

জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়, গুলি ছোড়ার আগে গ্যানেট চিৎকার করে বলেন, ‘তুই কাল আর সূর্য দেখবি না।’ পরে ছোড়া গুলি মাইকেল রোজারিওর পেট ও তলপেটে বিদ্ধ হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই বছর পর ২০২৩ সালের জুলাইয়ে গ্যানেট যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। এরপর ২০২৪ সালের এপ্রিলে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়।

মামলার রায় ঘোষণা করেন বিচার বিভাগের ক্রিমিনাল ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল এ টাইসেন ডুভা এবং সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জে ক্লেটন।

মামলাটির তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের লস অ্যাঞ্জেলেস ও নিউইয়র্ক ফিল্ড অফিস কাজ করে। এ ছাড়া ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে নিযুক্ত এফবিআইয়ের লিগ্যাল অ্যাটাশে, বিচার বিভাগের অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স এবং বাংলাদেশ সরকারও তদন্তে সহযোগিতা করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন বিচার বিভাগ।

ভিওডি বাংলা/বিন্দু


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
সরকার গঠনের পথে বিজয়, পেলেন ১১৮ বিধায়কের সমর্থন
সরকার গঠনের পথে বিজয়, পেলেন ১১৮ বিধায়কের সমর্থন
ইরান ইস্যুতে বিরোধিতা, বাহরাইনের সংসদে ৩ এমপি বহিষ্কার
ইরান ইস্যুতে বিরোধিতা, বাহরাইনের সংসদে ৩ এমপি বহিষ্কার
জাহাজ জব্দের ঘটনায় পাকিস্তান-ইরানের যৌথ সমন্বয়
জাহাজ জব্দের ঘটনায় পাকিস্তান-ইরানের যৌথ সমন্বয়