কঠোর হুমকির মধ্যেও হরমুজ নিয়ন্ত্রণে অনড় ইরান

পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির বিস্তৃত এলাকায় নিজেদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ দেখিয়ে নতুন একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
এ অবস্থায় কঠোর হুমকির দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, প্রণালিটিতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামের অভিযান চালিয়ে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে মুক্ত করবে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে এসব হুমকির তোয়াক্কা না করে উল্টো সতর্ক করে তেহরান বলেছে, এই অঞ্চলে কোনো বিদেশি সামরিক শক্তি আসে বা প্রবেশের চেষ্টা করে, তাহলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
দেশটির রাষ্ট্র-সম্পৃক্ত সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এই মানচিত্রে প্রণালির উভয় পাশে বড় একটি অঞ্চলকে ‘নতুন নিয়ন্ত্রণিত এলাকা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
মানচিত্র অনুযায়ী, পশ্চিম দিকে এই নিয়ন্ত্রণ এলাকা শুরু হয়েছে ইরানের কেশম দ্বীপ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উম্ম আল-কুয়াইন আমিরাত পর্যন্ত। আর পূর্ব দিকে এটি বিস্তৃত হয়েছে ইরানের মাউন্ট মোবারক থেকে আমিরাতের ফুজাইরাহ অঞ্চলের মধ্যে একটি কাল্পনিক রেখা পর্যন্ত।
এই মানচিত্র প্রকাশের সময়ই আমিরাতের ফুজাইরাহ তেল বন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলার পরপরেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
এতে ৩ জন ভারতীয় নাগরিক আহত হন।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে জানা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বের হতে চাওয়া জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনী মোতায়েন করবে।
এর আগে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামের অভিযান চালিয়ে আটকে পড়া জাহাজগুলোকেমুক্ত করতে সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্র।
এই অভিযানে ১৫ হাজার মার্কিন সেনা, ডেস্ট্রয়ার জাহাজ, বহুমাত্রিক মানববিহীন প্ল্যাটফর্ম (ড্রোন) এবং শতাধিক যুদ্ধবিমান অংশ নিয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিকল্পনা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।
ইরান সতর্ক করে বলেছে, কোনো বিদেশি সামরিক শক্তি (বিশেষ করে মার্কিন বাহিনী) যদি হরমুজ প্রণালির কাছে আসে বা প্রবেশের চেষ্টা করে, তাহলে তা ‘আক্রমণ’ হিসেবে বিবেচিত হবে। সেই সঙ্গে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
ভিওডি বাংলা/এসআর







