আমি হারিনি, পদত্যাগ করবো না: মমতা

মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে চান না তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দেশটির নির্বাচন কমিশনের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, নির্বাচন কমিশন নোংরা খেলা খেলেছে।
বিধানসভা নির্বাচনের অনিয়ম তুলে ধরতে মঙ্গলবার বিকেলে কালীঘাটে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে মমতা ও অভিষেকের সঙ্গে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ডেরেক ও’ব্রায়েন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। ইস্তফার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে?’
তিনি দাবি করেন, আমার প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল নির্বাচন কমিশন, বিজেপি নয়। কমিশনের সাহায্যে ১০০-র বেশি আসন লুট করা হয়েছে। সুষ্ঠু ফলাফলে হারলে কোনো অভিযোগ না করে তা মেনে নিতেন বলে জানান মমতা।
মমতা বলেন, আমি হারিনি, তাই রাজভবনে যাব না। আমি পদত্যাগপত্রও জমা দেব না।
তিনি বলেন, ‘এত দিন আমি চেয়ারে ছিলাম। অনেক কিছু সহ্য করেছি। কিন্তু এখন আমি মুক্ত বিহঙ্গ। সাধারণ মানুষ। আর সহ্য করব না। সব অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করব। আমি রাস্তার লোক। রাস্তায় ছিলাম, রাস্তায় থাকব।’
তিনি আরো বলেন, ‘জোট আগামী দিনে আরো শক্তিশালী হবে। অখিলেশ আজ আসতে চেয়েছিল। আমি কাল আসতে বলেছি। একে একে সবাই আসবেন। জোট শক্তিশালী করব।’
সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছে অভিযোগ করে মমতা বলেন, এভাবেই তারা মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, বিহার এবং এখন বাংলা থেকে নির্বাচন চুরি করেছে।
৭১ বছর বয়সী মমতা আরও বলেন, আমার পেটে এবং বুকে লাথি মারা হয়েছে। সিসিটিভি বন্ধ ছিল। আমাকে গণনা কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়। একজন নারী হিসেবে আমার সাথে খারাপ আচরণ করা হয়েছে।
সোমবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। তাদের ওয়েবসাইটে দেয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি ২০৭ আসনে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে মমতার তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র ৮০টি আসন। রাজ্যটিতে সরকার গঠন করতে হলে ১৪৮টি আসনে জয় পেতে হয়।
এদিকে বিজেপি আগামী ৯ মে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠান করবে বলে জানিয়েছে। রাজ্যটিতে এবার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী।
ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ/বিন্দু







