যুক্তরাষ্ট্রে খুন হওয়া বৃষ্টির মরদেহ দেশে আসতে পারে বুধবার

যুক্তরাষ্ট্রে হত্যার শিকার বাংলাদেশি মেধাবী শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ বুধবার (৬ মে) নাগাদ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। জানাজা শেষে মরদেহ দেশে আনা হলে মাদারীপুরে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছে পরিবার।
সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নিহতের বাবা জহির উদ্দিন আকন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। তবে নির্দিষ্ট সময় এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
তিনি আরও জানান, বুধবারের পর যেকোনো দিন মরদেহ দেশে পৌঁছাতে পারে। পরিবার ইতোমধ্যে দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং গ্রামের বাড়িতেই বৃষ্টিকে চিরনিদ্রায় শায়িত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নিহত নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুর গ্রামে। তবে বাবার চাকরির কারণে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারসহ ঢাকার মিরপুরে বসবাস করতেন।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ও স্বপ্নবাজ ছিলেন বৃষ্টি। উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন পূরণ হলেও অকালেই তার জীবনাবসান ঘটল।
২০২৫ সালের ১২ আগস্ট উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যান বৃষ্টি। ফ্লোরিডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা শুরু করেন তিনি। সেখানে সহপাঠী জামিল আহম্মেদ লিমনের সঙ্গে তার পরিচয় ও বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।
সবশেষ গত ১৬ এপ্রিল পরিবারের সঙ্গে বৃষ্টির কথা হয়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে একাধিক ঘটনার পর তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়, যা পরিবারকে গভীর শোকের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, লিমন ও তাদের এক মার্কিন রুমমেটের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। সেই দ্বন্দ্বের জের ধরে ১৬ এপ্রিল বৃষ্টি ও লিমনকে ক্যাম্পাস এলাকা থেকে অপহরণ করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার আটদিন পর, ১ মে লিমনের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ। পরদিন ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া রক্তের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়, বৃষ্টিকেও হত্যা করা হয়েছে।
মাত্র সাত মাস আগে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করেন বৃষ্টি। এরপর উচ্চতর ডিগ্রির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। পরিবারের আশা-ভরসার প্রতীক এই মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ভিওডি বাংলা/জা







