লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ২৪ ঘণ্টায় নিহত ৪১

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত বিমান হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৪১ জন নিহত হয়েছেন। দুই সপ্তাহ আগে ঘোষিত তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ বারবার লঙ্ঘন করে এই প্রাণঘাতী অভিযান চালানো হচ্ছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবারের নতুন দফা হামলায় দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে নাবাতিহ জেলার শুকিন শহরে হামলায় ৩ জন এবং কাফার দাজাল গ্রামে একটি গাড়িতে হামলায় ২ জন নিহত হন। লওয়াইজাহ গ্রামে একটি বাড়িতে বিমান হামলায় আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে দেশটিতে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৬৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৮ হাজার ১৮৩ জনের বেশি।
গত ১৭ এপ্রিল শুরু হয়ে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাড়ানো যুদ্ধবিরতি এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। আল-জাজিরার বৈরুত প্রতিনিধি ররি চ্যালেন্ডস জানিয়েছেন, এই যুদ্ধবিরতি এখন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। বাস্তবে দক্ষিণ লেবাননে সংঘাত থামেনি, বরং আরও বিস্তৃত হচ্ছে। চীনও একে ‘যুদ্ধবিরতি’ না বলে ‘নিম্নমাত্রার হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
প্রাণহানি বাড়লেও পিছু হটছে না হিজবুল্লাহ। শুক্রবার গোষ্ঠীটি লেবাননের ভেতরে অবস্থানরত ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয়। তারা জানায়, আধুনিক ড্রোনের মাধ্যমে ইসরায়েলি ট্যাংক ও সামরিক যান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। বিনত জবেইল ও হুলা গ্রামে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে গোলন্দাজ হামলাও চালানো হয়েছে। পাল্টাপাল্টি এসব লড়াইয়ে সম্প্রতি ৩ ইসরায়েলি সেনার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে জর্ডানের আম্মান থেকে আল-জাজিরার সাংবাদিক জ্যাক বার্টন জানিয়েছেন, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের ওপর যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি বাতিলের জন্য অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়ছে। ইসরায়েলের জনমত ও বিরোধী দল—উভয়ই এ যুদ্ধবিরতির বিরোধিতা করছে। দেশটির সেনাবাহিনীও দাবি করছে, হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় প্রতিদিন তাদের সেনারা আহত হচ্ছে, তাই সংঘাত আরও জোরদারের প্রস্তুতি রয়েছে।
সংঘাত শুরুর পর থেকে লেবাননে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ইসরায়েলের দাবি, তারা হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করেই হামলা চালাচ্ছে। তবে লেবানন সরকারের অভিযোগ, নিহতদের বড় একটি অংশই বেসামরিক নাগরিক।
ভিওডি বাংলা/আ







