• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
logo
শিরোনাম
পরীক্ষা পদ্ধতি ঢেলে সাজাতে 'উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স' গঠনের ঘোষণা মোদির রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় বিএনপির পাঁচ শীর্ষ নেতা ভারত সিরিজ ঘিরে আশাবাদী মিরাজ, সম্পর্ক স্বাভাবিকে তৎপর বিসিবি অবৈধ সম্পদের অভিযোগ, সাবেক জেল সুপার ও স্ত্রীকে ঘিরে দুদকের অনুসন্ধান স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের কোনো সুযোগ নেই: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শারমিনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সারিয়াকান্দিতে দ্বিতীয় যমুনা সেতুর দাবিতে মানববন্ধন দলীয় ব্যক্তির নিয়োগ নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য হুমকি: জামায়াত গাড়ি কেনার নেশায় প্রথম সিনেমায় ‘হ্যাঁ’ বলেছিলেন রাকুল প্রীত সিং ‘মাদরাসা রেজিস্ট্যান্স ডে’ বাস্তবায়নে উদ্যোগ, সভায় প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

পাম্পে কমছে দীর্ঘ লাইন, ফিরছে স্বস্তি

  রেজাউল করীম হীরা
প্রকাশ:  ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৬ এ.এম.
শেয়ার করুন 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দেশে যে জ্বালানি সংকট ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে কমেছে দীর্ঘ অপেক্ষার লাইন, ফিরছে স্বস্তি। কয়েকদিন আগেও যেখানে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোল নিতে ২ থেকে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো, সেখানে এখন অনেক পাম্পে ৩০ থেকে ৫০ মিনিটের মধ্যেই জ্বালানি মিলছে।

জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়, সরবরাহ বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থা চালুর ফলে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি জ্বালানি মজুত নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক ছিল, সেটিও অনেকটা কমে এসেছে।

এদিকে মোটরসাইকেলের পর এবার ব্যক্তিগত গাড়িকেও ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। প্রাথমিকভাবে ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’ সিরিজের ব্যক্তিগত গাড়িগুলোকে এই ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পর্যায়ক্রমে অন্য সিরিজের গাড়িও যুক্ত হবে।

রাজধানীর শাহবাগ এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, ফুয়েল পাস যাচাই করে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। কয়েকদিন আগেও সেখানে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি ছিল, চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। এখন সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। অপেক্ষার সময় নেমে এসেছে প্রায় এক ঘণ্টায়।

একই অবস্থা দেখা গেছে মতিঝিল, মৎস্য ভবন, তেজগাঁও ও মহাখালীর কয়েকটি ফিলিং স্টেশনেও। আগে যেখানে মোটরসাইকেলের সারি কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ত, এখন তা অনেকটাই কমে এসেছে। ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যাও তুলনামূলক কম দেখা গেছে।

মতিঝিলের একটি ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী তারেক হোসেন বলেন, আগে তেল নিতে তিন ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করতে হয়েছে। এখন ৪০ মিনিটেই তেল পাওয়া যাচ্ছে। এতে কর্মজীবীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে।

একই পাম্পে অপেক্ষমাণ রাশেদ ইসলাম বলেন, কয়েকদিন আগেও আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছিল। আজ ৪০ মিনিটেই তেল পেয়েছি। এই সময়ের মধ্যে তেল পাওয়া গেলে সেটাই এখন স্বস্তির।

পরিবাগ এলাকার আরেকটি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালক সিফাত উল্লাহ জানান, আগে কখনও কখনও পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। এখন ফুয়েল পাস ব্যবস্থার কারণে তুলনামূলক দ্রুত জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে।

পাম্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহ বাড়ায় চাপ কমেছে। এক ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক জানান, আগে দৈনিক প্রায় ২৭ হাজার লিটার জ্বালানি সরবরাহ হতো, বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৩৭ হাজার লিটারে দাঁড়িয়েছে। সরবরাহ বাড়ার ফলে দীর্ঘ লাইনও ধীরে ধীরে ছোট হচ্ছে।

জ্বালানি বিভাগ বলছে, বিতরণ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনার লক্ষ্যেই ‘ফুয়েল পাস’ চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কোন যানবাহন কখন এবং কতটুকু জ্বালানি নিচ্ছে, তা ডিজিটালভাবে নজরদারি করা সম্ভব হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত মজুত বা কালোবাজারির সুযোগও কমে আসবে।

মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়ার পর ইতোমধ্যে এর ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। এখন ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে পাম্পে চাপ কমানো এবং সরবরাহে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকদের নির্ধারিত অ্যাপ অথবা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হবে। অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করতে পারবেন। আইওএস ব্যবহারকারীদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।

এর আগে রাজধানীর তেজগাঁও ও আসাদগেটের দুটি ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফুয়েল পাস’ চালু করা হয়। শুরুতে নির্দিষ্ট সিরিজের মোটরসাইকেলকে নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হয়। পরে তা রাজধানীর আরও কয়েকটি পাম্পে সম্প্রসারণ করা হয়। এরপর ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা ও মহানগর এলাকাতেও এ কার্যক্রম বিস্তৃত করা হয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংকটের সময় আতঙ্কে অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহের প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। তবে সরকার সরবরাহ নিশ্চিত করায় এবং বিতরণে প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়ানোয় বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরছে।

তাদের মতে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে এবং ফুয়েল পাস ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী দিনগুলোতে পাম্পের দীর্ঘ লাইন আরও কমে আসবে। এতে সাধারণ চালকদের ভোগান্তিও কমবে এবং জ্বালানি বিতরণে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

বর্তমানে রাজধানীর বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনে পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আপাতত কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি অব্যাহত রাখতে হবে।

ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ/আ


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহিত
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে দায়িত্ব কার, কী বলছে সংবিধান
ছবি: সংগৃহীত
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: যে দুপুরে থেমে গিয়েছিল অসংখ্য ক্ষুদে স্বপ্ন
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ কেন নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে
যেসব কারণে নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত