ধর্মপ্রাণ হজযাত্রীদের পদচারণায় মুখর আশকোনা হজক্যাম্প

রাজধানীর আশকোনা হজক্যাম্পে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। পবিত্র হজ পালনকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। হজযাত্রার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ায় ক্যাম্পজুড়ে দেখা গেছে ব্যস্ততা, আবেগ আর আধ্যাত্মিক প্রস্তুতির এক অনন্য মিশ্রণ।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রথম হজ ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে। উদ্বোধনী ফ্লাইটে ৪১৯ জন হজযাত্রী সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত মোট ১৪টি ফ্লাইট পরিচালিত হবে।
এই ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালনা করবে ৬টি, সৌদি আরবের সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ৪টি এবং ফ্লাইনাস পরিচালনা করবে আরও ৪টি ফ্লাইট। পুরো কার্যক্রম ঘিরে বিমানবন্দর ও হজক্যাম্প এলাকায় নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি।
হজক্যাম্পে গিয়ে দেখা গেছে, কেউ ব্যস্ত লাগেজ গোছাতে, কেউবা শেষবারের মতো আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে কথা বলছেন। আবার কেউ নামাজ-দোয়া ও ইবাদতে সময় কাটাচ্ছেন। সব মিলিয়ে ক্যাম্পজুড়ে এক ধরনের আবেগঘন পরিবেশ বিরাজ করছে।
কুড়িগ্রাম থেকে আসা কচাকাটা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুল লতিফ জানান, দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণের পথে তিনি। চাকরি জীবনের শেষ দিকে এসে হজে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে তিনি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তার ভাষায়, “কাবা শরিফের সামনে দাঁড়িয়ে গুনাহ মাফ চাওয়ার সুযোগ জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
মাগুরার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা বিশ্বাস আব্দুস সাত্তারও একই অনুভূতির কথা জানান। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই হজে যাওয়ার স্বপ্ন ছিল। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হওয়ায় তিনি মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ।
অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে আসা মো. সাদিকুল আহাসান হজক্যাম্পের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, “আমরা যেন সুস্থভাবে হজ পালন করে নিরাপদে দেশে ফিরতে পারি।”
হজক্যাম্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হজযাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ইমিগ্রেশনসহ প্রয়োজনীয় সকল প্রক্রিয়া ক্যাম্পেই সম্পন্ন করা হচ্ছে, যাতে যাত্রীরা কোনো ধরনের ভোগান্তিতে না পড়েন।
২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী পবিত্র হজ পালন করবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজে যাবেন। দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, মোট যাত্রীর ৫০ শতাংশ পরিবহন করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বাকি ৫০ শতাংশের মধ্যে সৌদিয়া পরিবহন করবে ৩৫ শতাংশ এবং ফ্লাইনাস ১৫ শতাংশ যাত্রী।
হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাত্রা আগামী ২১ মে পর্যন্ত চলবে। এ সময়ের মধ্যে মোট ২০৭টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালনা করবে ১০২টি, সৌদিয়া ৭৫টি এবং ফ্লাইনাস ৩০টি ফ্লাইট।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হজ শেষে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ৩০ মে থেকে, যা চলবে ১ জুলাই পর্যন্ত।
ভিওডি বাংলা/জা







