সমান অধিকারের বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজি রাখা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশকে এমন একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ধনী-গরিব, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিক সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করতে পারে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) গেন্ডারিয়া কিশলয় কচিকাঁচা মেলার উদ্যোগে সংগঠনটির ২২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চারুকলা প্রদর্শনী পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, অনুষ্ঠানে আসার আগে তিনি প্রদর্শনীতে শিশুদের আঁকা ছবি দেখেছেন। ছোট শিশুরা তাদের মনের ভাবনা থেকেই ছবি আঁকে, যা তাদের চিন্তাধারার প্রতিফলন। এসব ছবি দেখে তার নিজের শৈশবের স্মৃতিও মনে পড়ে যায়।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সব শিশুকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, যারা পুরস্কার পেয়েছে তারা যেমন প্রশংসার দাবিদার, তেমনি অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকেই অভিনন্দনের যোগ্য।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এই আয়োজন আরও বড় পরিসরে আয়োজন করা গেলে তা শিশুদের সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ক্ষেত্রে তিনি একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
ঢাকা-৬ আসনের ভোটার ও তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোট, সমর্থন ও ভালোবাসার মাধ্যমেই তিনি জাতীয় সংসদে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার ওপর আস্থা রেখে তাকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন, যা তার জন্য গৌরবের বিষয়।
তিনি বলেন, তার বাবা মরহুম সাদেক হোসেন খোকা ১৯৭১ সালে ১৯ বছর বয়সে গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধে অংশ নেন এবং ঢাকায় একাধিক গেরিলা অপারেশনে যুক্ত ছিলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নিহতদেরও স্মরণ করেন তিনি। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
ইশরাক হোসেন বলেন, বাংলাদেশের মানুষ বারবার নিজেদের অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করেছে। তবে ভবিষ্যতে যেন আর কোনো অন্যায়-অবিচার বা স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রয়োজন না হয়, সে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে শিশুদের পরিবেশনার প্রশংসা করে তিনি বলেন, তারা দীর্ঘ সময় ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে গান ও নৃত্য পরিবেশন করেছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এ এম শফিউর রহমান।
ভিওডি বাংলা/জা







