মুজিব বায়োপিকে হরিলুট !

বিনোদন ডেস্ক
মুজিব বায়োপিক নির্মাণ তো নয়, যেন লুটপাটের একটি মহা-প্রকল্প ! আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মেগা প্রকল্পের মতোই ছোট প্রকল্পেও হয়েছে হরিলুট। এমনই একটি প্রকল্প ছিলো ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ নির্মাণ। বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ প্রযোজনার নামে এই চলচ্চিত্র নির্মাণে হয়েছে যৌথ লুটপাট। ১১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে বিজ্ঞাপন খাতেই ব্যয় দেখানো হয়েছে ৩৩ কোটি টাকা। সাগর চুরির এই প্রকল্পে টিকেট বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ২ কোটি টাকারও কম।
চলচ্চিত্র শিল্পের সংকটময় পরিস্থিতিতেও দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যয়ে নির্মাণের অনুমোদন পায় মুজিব বায়োপিক। বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ প্রযোজনায় নির্মাণ চুক্তির পর ভারতের শ্যাম বেনেগালের পরিচালনায় বাংলা ও হিন্দি ভাষার এই চলচ্চিত্রের স্যুটিং শুরু হয় ২০২১ সালের ২১ জানুয়ারি। নির্মাণ কাজ শেষে ২০২৩ এর ১৩ অক্টোবর দেশে, আর ভারত ও যুক্তরাজ্যে একই বছরের ২৭ অক্টোবর ছবিটি মুক্তি পায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দু’দেশের তথ্য মন্ত্রণালয় পর্যায়ে চুক্তি অনুযায়ী এর নির্মাণ ব্যয় বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প বিএফডিসি ৬০ ভাগ আর ৪০ ভাগ ব্যয়ভার বহন করবে ভারতের এনএফডিসি। যদিও চলচ্চিত্রটির নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার পর চুক্তি ভঙ্গ করে এনএফডিসি। শুধু তাই নয়, নিজেদের ৪০ ভাগ খরচের কোন হিসেব না দিয়ে উল্টো বাংলাদেশের তহবিল থেকে আরো ২৭ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা নেয় এনএফডিসি। এখানেই শেষ নয়, বাংলাদেশে শ্যুটিংয়ে আসা শিল্পী-কুশলীদের বিমান ভাড়া, পাঁচ তারকা হোটেলে থাকা খাওয়া ও রাতের লাল-নীল বাতিতে বিশেষ আপ্যায়নেও দেশের তহবিল থেকে গুনতে হয় আরো ১৬ কোটি টাকা। (জিএফএক্স)
তথ্য মন্ত্রণালয়, বিএফডিসির অডিট বিভাগের সূত্র অনুযায়ী এই চলচ্চিত্রে- ১০৭ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হলেও অনুসন্ধানের হিসেব বলছে, ব্যয়- ১১৬ কোটি টাকা। চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনী থেকে আয় হয়েছে- ১ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
প্রাথমিক ব্যয় ধার্য করা হয়- ৮৩ কোটি টাকা যার বাংলাদেশ- ৬০ ভাগ অর্থাৎ ৫১ কোটি টাকা আর ভারত- ৪০ ভাগ অর্থাৎ ৩২ কোটি টাকা। এর সাথে বিজ্ঞাপনের- ৩৩ কোটি টাকা যুক্ত হওয়ায় ব্যয় বেড়ে দাড়ায়- ১১৬ কোটিতে। তবে অডিট আপত্তি থাকায় বিজ্ঞাপন খাতের সব টাকা পরিশোধ করেনি বিএফডিসি। পুরো প্রকল্পটির ব্যয়ের অনুমোদন দেন গওহর রিজভী ও আব্দুল মালেক।
জানতে চাইলে বর্ষীয়ান চলচ্চিত্র পরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টু ও বদিউল আলম খোকন বলেন, মুজিব বায়োপিক নির্মাণে লুটপাট নয়, হয়েছে মহা-লুটপাট। নির্মাণে শত কোটি টাকা ব্যয় গ্রহণযোগ্য নয়। দুদকের তদন্তের আহবান জানিয়ে বিজ্ঞাপন খাতে ৩৩ কোটি টাকা খরচ দেখানোর সমালোচনাও করেন তারা।
প্রযোজক-পরিচালক মোহাম্মাদ ইকবাল প্রকল্পটিতে মহা-লুটপাটের কথা উল্লেখ করে বলেন, ছবিটিতে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা খরচ হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনা বালিশ কান্ডকেও হার মানিয়েছে। তিনিও এর তদন্ত দাবি করেন।
চলচ্চিত্র দর্শক ফোরামের সভাপতি নুরুদ্দিন আহমেদ দেশীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যয়ের বিষয়টি তদন্ত করে যারা লুটপাটে জড়িত ছিলেন, তাদের আইনের আওতায় আনার দাবী জানান।
চলচ্চিত্র সমালোচক ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি বাচসাস সভাপতি কামরুল হাসান দর্পণ বলেন, দেশের চলচ্চিত্রের ক্রান্তিকালে সাধারণ মানুষের টাকায় মুজিব বায়োপিকে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। শহীদ জিয়াউর রহমানের মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে তাঁর সম্মান ক্ষুন্ন করা হয়েছে এই চলচ্চিত্রে।
ব্যবসা মন্দার পাশাপশি একের পর এক বন্ধ হচ্ছে প্রেক্ষাগৃহ! চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মুজিব বায়োপিকে লগ্নি হওয়া অর্থ সহায়ক হতে পারতো এই শিল্পের উন্নয়নে। সংকটময় পরিস্থিতিতে শত কোটির টাকারও বেশি ব্যয়, তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন তারা।
ভিওডি বাংলা/ এম







