• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
logo
শিরোনাম
পরীক্ষা পদ্ধতি ঢেলে সাজাতে 'উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স' গঠনের ঘোষণা মোদির রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় বিএনপির পাঁচ শীর্ষ নেতা ভারত সিরিজ ঘিরে আশাবাদী মিরাজ, সম্পর্ক স্বাভাবিকে তৎপর বিসিবি অবৈধ সম্পদের অভিযোগ, সাবেক জেল সুপার ও স্ত্রীকে ঘিরে দুদকের অনুসন্ধান স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের কোনো সুযোগ নেই: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শারমিনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সারিয়াকান্দিতে দ্বিতীয় যমুনা সেতুর দাবিতে মানববন্ধন দলীয় ব্যক্তির নিয়োগ নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য হুমকি: জামায়াত গাড়ি কেনার নেশায় প্রথম সিনেমায় ‘হ্যাঁ’ বলেছিলেন রাকুল প্রীত সিং ‘মাদরাসা রেজিস্ট্যান্স ডে’ বাস্তবায়নে উদ্যোগ, সভায় প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

টার্গেট ছিল বাবু, ভাড়াটে খুনির পেছনে কারা?

  মান্না
প্রকাশ:  ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০:২৯ পি.এম.
শেয়ার করুন 1
যুবদল নেতা হাফিজুল ইসলাম বাবু
গ্রাফিক্স: ভিওডি বাংলা

রাত আনুমানিক ১১টা ১০ মিনিট। আমার বন্ধু ইউসুফ আমাকে ফোনে চায়ের দোকানে থাকা তিনজন অপরিচিত যুবক সম্পর্কে জানায়। পাশেই বসেছিলেন বাবু ভাই, কৌশলগত কারণে ভাইকে কাছে থেকেই ফোনে জানাই, ভাইয়া চায়ের দোকানে দুজন লোক, চেনেন নাকি? ভাইয়া বললেন, না চিনি না। এরই মধ্যে সেই তিনজনের মধ্যে একজনের চোখে চোখ পড়ে ভাইয়ার। সঙ্গে সঙ্গেই সে দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়। তখন ভাইয়া আমাকে বলে, সুজন ওদের ধর। আমি পেছন পেছন হেঁটে এই রোডের মাথা দিয়ে এক নাম্বার রোডের দিকে অগ্রসর হই। তখন আমি ওদের বলি ভাই দাঁড়ান। একজন দৌড় দেয়, বাকিরা দাঁড়িয়ে যায়। যখন ওদের বলি, ভাই দৌড় দিলেন কেন, তখন বলে, কই দৌড় দিলাম? বাসা কোথায় জানতে চাইলে তারা বলে ১০ নাম্বার। ঐ সময় ইউসুফ আমার পেছনে উপস্থিত হয়। সঙ্গে সঙ্গেই একজন কোমড়ে হাত দেয়। ইউসুফ বলে, তোর লগে কি? বলার সাথেই ওদের একজনকে জাপটে ধরে। সঙ্গে সঙ্গেই জাপটে ধরা যুবক ইউসুফের বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে। গুলির পর পরই বাবু ভাই চলে আসে। তখন ওরা এলোপাতাড়ি আরও দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। যখন বাবু ভাইয়ের দিকে গুলি ছোড়া হয়, তখন মামুন নামে এক যুবক হাতের কাছে থাকা একটি কাঠের টুল হামলাকারীর দিকে ছুড়ে মারে। এতে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় এবং বাবু ভাই মাটিতে বসে পড়ে বেঁচে যান।

এভাবেই যুবদল নেতা হাফিজুল ইসলাম বাবুর ওপর হামলার ঘটনার বর্ণনা দেন প্রত্যক্ষদর্শী ও যুবদলকর্মী মো. শাহাজাত হোসেন সুজন। গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে মিরপুর ১৩ নম্বরে বয়রা পট্টি এলাকার ওপেক্স গার্মেন্টস সংলগ্ন রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে। সেদিন গুলিতে নিহত হন যুবদলের কর্মী ইউসুফ ও আহত হন সবজি বিক্রেতা এবং পথচারী।

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। পরবর্তীতে মামলা হলে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আসামিরা হলেন- চঞ্চল, জিহাদ এবং মাসুম বিল্লাহ। তাদের সবার বাড়ি ঝিনাইদহ জেলায়।

ঘটনাস্থলে থাকা যুবদলের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় একজনের জানাজা শেষে ৪/৫ জন নেতাকর্মীর সঙ্গে বয়রা পট্টি এলাকার একটি সেলুনের পাশে অবস্থান করছিলেন কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবু। রাত সাড়ে ১০টা থেকেই সেলুনের বিপরীত পাশে চায়ের দোকানে এক যুবক দাঁড়িয়েছিল। ওই দোকান থেকে ১০/১২ ফিট দূরের আরেকটি চায়ের দোকানে অপেক্ষা করছিল আরো দুজন। তাদের আগে কখনো এলাকায় দেখা যায়নি। এ কারণে তাদের সন্দেহ করেন সেখানে থাকা যুবদলের কর্মীরা। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে ওই তিন যুবক পালিয়ে যেতে চায়। তখন তাদের পিছু নেয় সুজন ও ইউসুফ। একপর্যায়ে ইউসুফ একজনকে জাপটে ধরলে সে অস্ত্র বের করে ইউসুফের বুকে গুলি করে। ওই সময় তাদের এলোপাতাড়ি গুলিতে আরও দুইজন আহত হলেও বেঁচে যান যুবদল নেতা বাবু।

অপরিচিত তিন যুবকের উদ্দেশ্যই ছিল যুবদল নেতা বাবুকে হত্যা, কিন্তু নিহত ইউসুফ ও অন্য কর্মীদের প্রতিরোধের মুখে ভেস্তে যায় হত্যাকারীদের পরিকল্পনা। এমনটাই বলছেন প্রত্যক্ষদর্শী, যুবদলের নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা। তাদের প্রশ্ন, কাদের ইন্ধনে ভাড়াটে খুনি পাঠিয়ে বাবুকে হত্যার চেষ্টা করা হলো?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, রাত ১১টার দিকে হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে দোকানের শাটার বন্ধ করে দিই। কিছুক্ষণ পর বন্ধ শাটার খুলে দেখি রাস্তায় রক্ত পড়ে আছে।

স্থানীয় কয়েকজন ভিওডি বাংলাকে বলেন, আমরা জানি না কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড। তবে আমরা বুঝতে পারছি, হত্যাকারীদের টার্গেট ছিলেন কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বাবু।

এক প্রশ্নের জবাবে তারা জানান, যুবদল নেতা বাবু এলাকার সকল সামাজিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসেন। লোকজনের খোঁজ-খবর রাখেন। এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও ভূমিকা রাখেন। এলাকার মানুষের কাছে তিনি জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। হয়তো এ কারণেই প্রতিপক্ষ ভাড়াটে খুনির মাধ্যমে বাবুকে হত্যা করার চেষ্টা চালিয়েছে।

এদিকে, আহত সবজি ব্যবসায়ী লালান সরদার সম্পর্কে খোঁজ নিতে গিয়ে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে মাত্র ১৫ দিন আগে পিরোজপুরের নাজিরপুর থানার  বুড়িখালির হোগলাবুনিয়া থেকে ঢাকায় আসেন তিনি। কিন্তু ভাগ্য বদলের আগেই সন্ত্রাসীর গুলিতে আহত হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনতে হচ্ছে তাকে।

লালানের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভিওডি বাংলা। তার বড় ছেলে সজিব সরদার বলেন, আমার বাবার অবস্থা ভালো না। মাথা থেকে গুলি বের করা হয়েছে, মাথার হাড় ভেঙে গেছে। তার পুরো শরীর ফুলে গেছে। ডাক্তার আইসিউতে রাখার কথা বললেও সেখানে সিট পাওয়া যাচ্ছে না। 

এ বিষয়ে জানতে কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করে ভিওডি বাংলা। তিনি বলেন, আমার সঙ্গে কারো রাজনৈতিক কোনো দ্বন্দ্ব নেই।  কিন্তু বিভিন্ন মাধ্যমে হাফিজ উদ্দিন হাফিজ নামে একজনের নাম  জানতে পারছি। সে নাকি কিলারদের ভাড়া করে আনছে। হাফিজ পেশায় সিএনজি চালক এবং কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক। হাফিজ তো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তার অতীত যেটাই হোক, সে এখন কারো না কারো অন্তরঙ্গ সহযোগী হয়ে রাজনীতিতে যুক্ত আছে। ধারণা করছি, রাজনৈতিকভাবে আমার প্রতি বিদ্বেষ বা ঈর্ষান্বিত হয়ে হাফিজকে ব্যবহার করা হয়েছে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে হাফিজুল ইসলাম বাবু বলেন, যে পেটের ক্ষুধার তাগিদে সিএনজি চালায় সে কীভাবে এত টাকার যোগান দিতে পারে তা আমার জানা নেই। কারণ কিলিং মিশনে ঢাকার বাইরে থেকে ৪/৫ জন কিলার ভাড়া করা, অস্ত্র ক্যারি করা এটা কিন্তু এক-দু টাকার বিষয় না। ৫টা কিলার ঢাকার শহরে এসে ১০/১২ দিন থাকা কম খরচের বিষয় না। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, যে নিজের পেট চালাতে পারে না সে এই অর্থের যোগান দিবে কীভাবে? তবে অবশ্যই অর্থের যোগানদাতা, পরামর্শদাতা হাফিজকে এই কিলিং মিশনের দায়িত্ব দিয়েছেন। আশা করি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হাফিজকে দ্রুত গ্রেপ্তার করলেই হামলার পেছনে জড়িত সবার তথ্য পাওয়া যাবে।

বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে যুবদলের এ নেতা বলেন, বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা আছে, কিন্তু সন্ত্রাসীরা ঠিকই আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে। আমরা দেখেছি, ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের মুসাব্বির যাকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ১২ মাসই কারাগারে রেখেছিল। সেই মুসাব্বিরকেই সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে হত্যা করেছে। যদি সেই হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সময়ে হতো, তাহলে এ রকম কর্মকাণ্ড ঘটতো না। আইনের যদি নিদিষ্ট প্রয়োগ হয় তাহলে এমন ধরনের ঘটনা সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। পল্লবী থানা যুবদলের সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়াকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। কিন্তু আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে সন্ত্রসীরা আদালত থেকে জামিন নিয়ে ঠিকই ঘুরে বেড়াচ্ছে।

এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক হাফিজ উদ্দিন হাফিজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ভিওডি বাংলা। তবে তার ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বর বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে কাফরুল থানায় হত্যা মামলা করেছেন নিহত ইউসুফের বড় ভাই মো. সুমন। এ বিষয়ে কাফরুল থানার ওসি মো. ছাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ভিওডি বাংলাকে বলেন, আমরা তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এছাড়া অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে ধরতে অভিযান চলছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখন কিছু বলা যাবে না।

ভিওডি বাংলা/এমএ/এফএ


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহিত
ভারতের তরুণদের আন্দোলন কোথায় গিয়ে থামবে?
ছবি: সংগৃহিত
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে দায়িত্ব কার, কী বলছে সংবিধান
ছবি: ভিওডি বাংলা
ধামরাইয়ে ৪ ভুয়া ডিবি গ্রেপ্তার