কেয়ামত পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার চাই না
‘নির্বাচনের জন্য যমুনা অভিমুখে লং মার্চ হবে জাতির জন্য দুর্ভাগ্য’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিচার ও সংস্কারের নামে অনন্তকাল ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা সম্মানজনক হবে না। এ দেশের মানুষ সেটি মেনে নেবে না। এই সরকারের একমাত্র ম্যান্ডেট স্বচ্ছ নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করা। আমরা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বলেছিলাম, নির্বাচনমুখী জরুরি সংস্কার করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিতে হবে। আপনি সেটি গ্রহণ করেছিলেন। আবার সেখান থেকে সরে গেছেন। গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে, কিন্তু মনে করবেন না রোজ কিয়ামত পর্যন্ত আপনাদেরকে আমরা এই জায়গায় দেখতে চাই।
ড. ইউনুসকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, ‘আপনার সরকারকে লোকজন বলছে এনসিপি মার্কা সরকার। আপনার সরকারে এনসিপির দুই জন প্রতিনিধি বিদ্যমান। তারা উপদেষ্টা এবং এনসিপি সংগঠন করে। আপনি নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে চান, তাদের এনসিপি মার্কা দুইজনকে পদত্যাগ করতে বলুন। পদত্যাগ না করলে আপনি বিদায় করুন। আপনার কেবিনেটে আরও কিছু উপদেষ্টা আছে, তারা ফ্যাসিস্টদের দোসর এবং কিছু এনজিও প্রতিনিধি আছে, তারা দেশে নির্বাচন দিতে চায় না। তাদেরকে পদত্যাগ করতে বলুন। অন্যথায় আপনি তাদের বিদায় করুন। আপনার দায়িত্ব শুধুমাত্র নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু নির্বাচন করে জনগণের প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। কিন্তু এখন দেখছি আপনি কথিত মানবিক করিডোর দিতে চাচ্ছেন। দেশের নৌ ও স্থাল বন্দর বিদেশীদের হাতে তুলে দিতে চাচ্ছেন। অথচ এই ম্যান্ডেট এদেশের জনগণ আপনাকে দেয়নি। আপনি জাতির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সম্পর্কিত বিষয়গুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন, কিন্তু রাজনৈতিকদল গুলোর সঙ্গে আলোচনা করলেন না এবং তাদের পরামর্শ গ্রহণ করলেন না।
তিনি আরও বলেন, আপনার সরকারে একজন বিদেশী নাগরিককে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা করেছেন। আপনার কি সেই আক্কেলজ্ঞান নেই। একজন বিদেশী নাগরিকের কাছে এই দেশের সেনাবাহিনী কিভাবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রদান করবে। তিনি রোহিঙ্গা, মানবিক করিডোরের নামে বাংলাদেশকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করতে চায়। সেই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে বিদায় করুন। একজন বিদেশি নাগরিকের হাতে জাতীয় নিরাপত্তা কতোটুকু নিরাপদ থাকবে সেটি এখন বড়ো প্রশ্ন। ওই উপদেষ্টা ইতোমধ্যে বলেছেন, ‘কে কি বললো তাতে কিছু যায় আসে না’।
সালাহউদ্দিন বলেন, এদেশের মানুষ যদি নির্বাচনের জন্য যমুনা অভিমুখে লং মার্চ করে, সেটি হবে জাতির জন্য দুর্ভাগ্য। এদেশের জনগণ নির্বাচনের জন্য যমুনা অভিমুখে লং মার্চ সেটি কাম্য নয়; আমরা সব সময়ই বলেছি নির্বাচন ও সংস্কার কাজ এক সঙ্গে চলবে। নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার পূর্বের সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
তারুণ্যের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, গত জুলাই মাসে তারুণ্যের রক্তভেজা রাজপথের মাধ্যমে গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে। কিন্তু সেই কাঙ্খিত গণতন্ত্রের মুক্তি মেলেনি। এদেশের মানুষ গত ১৫ বছর ভোট দিতে পারেনি। তাই মানুষের ভোটধিকার প্রয়োগ করে একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠন করার জন্য তরুণ সমাজকে অ্যাম্বেসেডর হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
শনিবার (১৭ মে) খুলনার সার্কিট হাউজ মাঠে তারুণ্যের অধিকার প্রতিষ্ঠার সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল এই সমাবেশের আয়োজন করে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হওয়ার পর বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে দেশের অর্থ লুটপাট, পাচার এবং ব্যাংকিং সেক্টরে ডাকাতির বিষয় একটি কমিশন গঠন করা হয়।কমিশনের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে গত ১৫ বছরে ৪ লাখ কোটি টাকার খেলাপী ঋণ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলো দেইলিয়া হয়ে গেছে। সে অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। যা দিয়ে ২৪টি পদ্মা সেতু করা যেতো। আওয়ামী সরকার নিজেদের লোকদের লোন দিয়ে প্রতি বছরে ২ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। যা গত ১৫ বছরে সাড়ে ২৯ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে।
পতিত শেখ হাসিনাকে বিশ্ব খুনী আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা একজন বিশ্ব খুনী। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে জাতিসংঘের তদন্ত রিপোর্টে প্রায় ১৪ শত লোককে হত্যা করার অভিযোগ করা হয়েছে। শেখ হাসিনা খুনের রাজনীতির ইতিহাস প্রতিষ্টা করে গেছেন। আওয়ামী লীগের ইতিহাস গণতন্ত্রকে সাংবিধানিকভাবে হত্যা করার ইতিহাস। ১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগ সাংবিধানিকভাবে গণতন্ত্রকে হত্যা করে। এতো কিছুর পরও আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই। বরং দিল্লিতে বসে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বিষদগার করে চলেছে। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে আওয়ামী লীগের কর্মের মাধ্যমে। আর তার দাফন হয়েছে দিল্লিতে। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা দেশে প্রায় ৭ হাজার মানুষকে বিচার বহির্ভূতভাবে হত্যা করেছে। এছাড়া গুম, খুন চালিয়ে বিরোধী মতের মানুষকে নির্যাতন-নিপীড়ন করেছে। তাই আওয়ামী লীগ নিজেরাই নিজেদের অপসারণ করেছে।
বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল এই সমাবেশের আয়োজন করে। খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বিপুল সংখ্যক তরুণ নেতাকর্মী সমাবেশে যোগ দেন। সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না। বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তক্তৃতা করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা বিল্লাল হোসেন, রবিউল ইসলাম রবিন ও বাগেরহাজ জেলার শহিদ তানু ভূইয়ার স্ত্রী কানিজ ফাতিমা।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। সঞ্চলনা করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাকিব আহসান ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির।
উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্তু কুমার কুণ্ডু, কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক এমপি অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সাবেক এমপি কাজী আলাউদ্দিন, খুলনা মহানগর বিএনপি’র সভাপতি অ্যাড. শফিকুল আলম মনা, জেলা আহবায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, মাহনগর সাধারণ সম্পাদত শফিকুল আলম তুহিন, সাবেক এমপি সৈয়দা নার্গিস আলী, সাংবাদিক নেতা আমিরুল ইসলাম কাগজী, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা আমিরুল ইসলাম শিমুল বরিশাল বিএনপি নেতা আব্দুল কুদ্দুস, যুক্তরাজ্য বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক পারভেজ মল্লিক, বিএনপি নেতা ডাঃ শহিদুল আলম, অ্যাড. সাবেরুল হক সাবু, দেলোয়ার হোসেন খোকন, মাহবুবুল হক নান্নু, আবুল হোসেন খানসহ খুলনা-বরিশাল বিভাগের বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
ভিওডি বাংলা/ এমএইচ







