গত ১ বছরে ৩৮৯জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার: টিআইবি

২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে এ বছরের মার্চ পর্যন্ত ৩৮৯ জন সাংবাদিককে বিভিন্ন হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের(টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে যারা বিজয়ী হয়েছেন বা তাদের প্রতিনিধিদের দিয়ে এসব হয়রানির শিকার হয়েছে।
ঢাকার টিআইবি কার্যালয়ে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যমে দিবস হিসেবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রোববার (৩ মে) তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।
এসময় তিনি আরো বলেন, ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কমপক্ষে ৪ হাজার ৫০০ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ব্যবহার করা হয়েছিলো। এরমধ্যে কমপক্ষে ৪৫০ এর বেশি ছিলো মিডিয়া প্রফেশনাল। সেখানে ২৫০ জনকে আলাদাভাবে তাদের প্রফেশনাল কাজের জন্য টার্গেট করা হয়েছিল এবং তাদের বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত। দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। আমাদের দেশের মিডিয়ায় ভিন্নমতকে নিয়ন্ত্রণ করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এর ফলে মিডিয়া ফ্রিডমের উপর চাপ আসে।
এসময় বাংলাদেশের সুইডেন দূতাবাসের ফাস্ট সেক্রেটারি পাওলো ক্যাস্ট্রো নেইদারস্টাম বলেন, আমি কিছুটা দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এখন হুমকির মুখে। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি কেবল বাংলাদেশের সমস্যা নয়, বরং একটি বৈশ্বিক প্রবণতা। স্বাধীন গণমাধ্যম দিন দিন কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে; দমন-পীড়ন এবং হামলা বাড়ছে, যা সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথকে বাধাগ্রস্ত করছে। এই সমস্যাগুলো মোকাবিলায় আমাদের একযোগে কাজ করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের ইউনেস্কোর অফিস ইনচার্জ সুসান ভাইজ বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ইউনেস্কোর প্রধান লক্ষ্যগুলোর মধ্যে একটি এবং প্রতি বছর বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে আমরা এর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিই। এটি স্বীকার করা জরুরি যে, শুধু বাংলাদেশেই নয়, বরং বিশ্বজুড়েই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্রমবর্ধমানভাবে বাধার মুখে পড়ছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদন ও সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান কিছুটা নিচে নেমেছে।
তিনি আরো বলেন, সরকার পরিবর্তনের ফলে এখন আমাদের সামনে একটি নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে যার মাধ্যমে আমরা সাংবাদিকতার মান উন্নয়ন এবং জনআস্থা পুনরুদ্ধার করতে পারি। সঠিক, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য এবং ভুল সংশোধনের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতার ব্যবস্থার মাধ্যমেই জনআস্থা তৈরি হয়।
ভিওডি বাংলা/এসআর







