• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

হরমুজ খুললেও তেলের বাজারে কেন কাটছে না অনিশ্চয়তা?

ভিওডি বাংলা ডেস্ক    ৩০ জুন ২০২৬, ০৪:৪৩ এ.এম.
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যুদ্ধের আগের পর্যায়ে নেমে এসেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, দাম স্বাভাবিক হলেও তেলের বাজার এখনও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি।

বরং মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিপুল পরিমাণ তেল একসঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে আসতে শুরু করায় সরবরাহ, পরিবহন ও চাহিদার মধ্যে নতুন ভারসাম্য তৈরি করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাজারে অস্থিরতা: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অন্তর্বর্তী সমঝোতার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৩ ডলারে নেমে এসেছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায়ের কাছাকাছি।

কিন্তু বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার ইঙ্গিত নয়। বরং যুদ্ধের সময় আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ তেল এখন একসঙ্গে বাজারে প্রবেশ করায় সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে।

একসঙ্গে বের হচ্ছে আটকে থাকা তেলের জাহাজ: সংঘাত চলাকালে পারস্য উপসাগরে আটকে পড়া বহু তেলবাহী ট্যাংকার এখন দ্রুত এলাকা ছেড়ে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেছেন, কিছু সময়ের জন্য দৈনিক তেল পরিবহন যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের ২ কোটি ব্যারেলেরও বেশি হয়েছে।

তবে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য বলছে, সামগ্রিক নৌ চলাচল এখনও যুদ্ধের আগের তুলনায় অনেক কম। কিছু জাহাজ অবস্থান শনাক্তকারী যন্ত্রও বন্ধ রেখে চলাচল করছে, ফলে প্রকৃত পরিস্থিতি পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।

নতুন সমস্যা তেলের বাড়তি সরবরাহ: বিশ্লেষকদের মতে, এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা তেলের ঘাটতি নয়, বরং অতিরিক্ত সরবরাহ।

এশিয়া ও ইউরোপের অনেক পরিশোধনাগার ইতোমধ্যে জুলাই ও আগস্টের জন্য তেল কেনা শেষ করেছে। ফলে নতুন করে বাজারে আসা অতিরিক্ত তেলের জন্য তাৎক্ষণিক ক্রেতা মিলছে না।

এর ফলে অনেক ট্যাংকার সমুদ্রেই অপেক্ষা করতে বাধ্য হতে পারে। কার্যত সেগুলো ভাসমান গুদামে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইরানের তেলও ফিরছে বাজারে: সমঝোতার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থাকা বেশিরভাগ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রিস্ট্যাড এনার্জির পূর্বাভাস অনুযায়ী, বছর শেষে ইরানের দৈনিক তেল উৎপাদন ৩৩ লাখ ব্যারেলে পৌঁছাতে পারে, যা যুদ্ধের আগের তুলনায়ও বেশি। এতে বৈশ্বিক বাজারে তেলের সরবরাহ আরও বাড়তে পারে।

২০২৭ সালে বাড়তি সরবরাহের আশঙ্কা:  আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক তেল উৎপাদন কমলেও ২০২৭ সালে তা আবার দ্রুত বাড়বে।

অন্যদিকে চাহিদা সেই হারে বাড়বে না। ফলে দৈনিক প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেলের উদ্বৃত্ত তৈরি হতে পারে।

যদিও বাস্তবে পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতার কারণে এই হিসাব পুরোপুরি বাস্তবায়িত নাও হতে পারে।

হরমুজ নিয়ে ঝুঁকি এখনও রয়েছে: সমঝোতা অনুযায়ী আগামী ৬০ দিন হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাহীন থাকার কথা।

তবে এই সময়ের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা চলবে।

এরই মধ্যে একটি তাইওয়ানের মালবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরানি বাহিনীর গুলি ছোড়ার ঘটনায় আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলাও হয়।

যদিও পরে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে, তবুও অনেক জাহাজ মালিক এখনও হরমুজ দিয়ে জাহাজ পাঠাতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে অঞ্চল থেকে চারটি ট্যাংকার বের হলেও নতুন করে প্রবেশ করেছে মাত্র একটি।

বিশ্লেষণ

হরমুজ প্রণালি খুলে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার তাৎক্ষণিক স্বস্তি পেলেও দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত।

একদিকে বাজারে দ্রুত বাড়ছে তেলের সরবরাহ, অন্যদিকে চাহিদা বাড়ছে ধীরগতিতে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ।

ফলে তেলের দাম আপাতত স্থিতিশীল থাকলেও আগামী কয়েক মাস আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা পুরোপুরি কাটবে—এমন নিশ্চয়তা এখনই দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা।

সূত্র: রয়টার্স

ভিওডি বাংলা/বিন্দু


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
ইরানে ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত, আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে নতুন প্রশ্ন
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে গুঞ্জন, যা বলল ইরান
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যে চীন সফরে যাচ্ছেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী