আইসিএপিপি স্থায়ী কমিটির সদস্য হলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ

ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অব এশিয়ান পলিটিক্যাল পার্টিজ (আইসিএপিপি)-এর স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে বিএনপির প্রতিনিধি মনোনীত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
সোমবার (২২ জুন) সংগঠনটির পক্ষ থেকে ই-মেইলের মাধ্যমে এ মনোনয়নের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
সূত্র জানায়, বিএনপির পক্ষ থেকে আইসিএপিপির স্থায়ী কমিটিতে সদস্য হিসেবে ইসমাইল জবিউল্লাহর নাম প্রস্তাব করেন দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রস্তাব অনুমোদনের পর তাকে এশীয় রাজনৈতিক দলগুলোর গুরুত্বপূর্ণ এই ফোরামের স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
আগামী ২৫ থেকে ২৮ জুন ২০২৬ পর্যন্ত মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটরে আইসিএপিপির ৪৫তম স্থায়ী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধি হিসেবে মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ ছাড়াও দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। সম্মেলনে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা একত্র হয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা, গণতান্ত্রিক চর্চা, সুশাসন, উন্নয়ন কৌশল এবং পারস্পরিক রাজনৈতিক বোঝাপড়া জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করবেন।
আইসিএপিপি দীর্ঘদিন ধরে এশিয়ার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ ও সহযোগিতার একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে আসছে। সংগঠনটি রাজনৈতিক আস্থা তৈরি, আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখা এবং উন্নয়ন সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে বিভিন্ন সময় সম্মেলন ও আলোচনা সভার আয়োজন করে থাকে।
এর আগে বিএনপির পক্ষ থেকে আইসিএপিপির স্থায়ী কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন দলের প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান (২০০৪-২০০৫) এবং পরবর্তীতে ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বর্তমান তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিকতা বিএনপির আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে অংশগ্রহণ ও অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
দলীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর এই মনোনয়ন বিএনপির জন্য একটি কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দলের অংশগ্রহণ আরও বিস্তৃত হবে এবং এশিয়ার বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।
এদিকে আসন্ন উলানবাটর বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সেখানে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন দিক নিয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের আন্তর্জাতিক ফোরামে অংশগ্রহণ শুধু রাজনৈতিক সম্পর্কই নয়, বরং কূটনৈতিক যোগাযোগ ও নীতিগত সহযোগিতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিএনপির এই অংশগ্রহণ ভবিষ্যতে এশীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে দলের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
ভিওডি বাংলা/জা







