তুরস্ক থেকে ইসরায়েলে হামলার পরিকল্পনা ফাঁস!

ফিলিস্তিন ইস্যুকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে তুরস্ক ও ইসরায়েলের বৈরী সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। গাজায় ইসরায়েলি হামলা এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান দমন-পীড়নের জেরে দুই দেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আগেই টানাপোড়েনের মুখে পড়ে। এবার সেই উত্তেজনা সরাসরি সংঘাতের দিকে গড়াতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ও অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত দাবি করেছে, তারা তুরস্কে অবস্থানরত হামাস সদস্যদের একটি নেটওয়ার্ক শনাক্ত করেছে, যারা ইসরায়েল ও পশ্চিম তীরে হামলার পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের সঙ্গে জড়িত ছিল।
রোববার (২১ জুন) এ বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট জানায়, দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারি ও তদন্তের মাধ্যমে এই নেটওয়ার্কের কার্যক্রম অনুসরণ করার পর সেটি শনাক্ত করার দাবি করেছে শিন বেত।
আইডিএফ ও শিন বেতের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তুরস্ক থেকে পরিচালিত হামাস-সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠীর পাঁচ সদস্যের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নতুন সদস্য সংগ্রহ, হামলার পরিকল্পনা তৈরি এবং অস্ত্র ও অর্থ স্থানান্তরের তদারকির অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযুক্ত পাঁচজন হলেন— সালাম ইয়াইশ, ওয়ালিদ আবু নাসের, মাজেদ জা’বা, মুহাম্মদ মাল্লাহ এবং আয়মান শারাওনা।
ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, গত সপ্তাহে গাজা উপত্যকায় হামাসের আর্থিক নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ দুই কমান্ডার হুসেইন কাদরা ও মোহাম্মদ ফাররাকে হত্যা করা হয়েছে। তারা হামাস ও ফিলিস্তিনি ইসলামী জিহাদের (পিআইজে) সামরিক শাখার সদস্য ছিলেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কাদরা, ফাররা এবং তাদের সহযোগীরা তুরস্ক ও গাজাভিত্তিক বার্তাবাহক এবং অর্থ বিনিময়কারীদের মাধ্যমে হামাসের সামরিক শাখায় অর্ধ বিলিয়ন এনআইএসেরও বেশি অর্থ স্থানান্তরে সহায়তা করেছে।
আইডিএফ দাবি করেছে, অভিযানের সময় বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে নির্ভুল অস্ত্র ও আকাশপথে নজরদারির মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
এর আগে গত এপ্রিলের মাঝামাঝি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান হাকান ফিদান সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘ইরানের পর তুরস্ককে নতুন প্রতিপক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে ইসরায়েল। কারণ শত্রু ছাড়া তারা টিকে থাকতে পারে না।’
এদিকে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ইসরায়েল এখন তুরস্ককে সম্ভাব্য নতুন প্রতিপক্ষ হিসেবে তুলে ধরার কৌশল নিচ্ছে। তাদের মতে, তুরস্কের ভেতরে হামাসের তৎপরতার অভিযোগকে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বা সামরিক চাপ তৈরির ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হতে পারে।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, সামরিক সক্ষমতা ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অস্ত্র ব্যবস্থায় তুরস্ক বর্তমানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বিশেষ করে ‘গাজাপ’ নামের ৯৭০ কেজি ওজনের থার্মোবারিক বোমা এবং পঞ্চম প্রজন্মের টুইন-ইঞ্জিন স্টেলথ যুদ্ধবিমান ‘কান’ ইসরায়েলের কৌশলগত উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
ফলে পশ্চিমা সমর্থনকে পাশে রেখে আঙ্কারার বিরুদ্ধে কৌশলগত অবস্থান জোরদারে তেল আবিব নতুন পথ খুঁজছে বলেও ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকরা।
ভিওডি বাংলা/এমএস







