বিমানবাহিনী কর্মকর্তার স্ত্রী হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার কাজী আব্দুল মতিনের স্ত্রী ফারাহ দীবা হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই বছর পর পলাতক প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর নিজ ফ্ল্যাটে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর কুষ্টিয়া থেকে মো. সবুজ বিশ্বাস (ড্রাইভার) নামের প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার (১৮ জুন) রাজধানীর কাওরান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে এ তথ্য জানান।
র্যাব জানায়, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, অপহরণ ও হত্যাসহ নানা অপরাধ দমনে সংস্থাটি নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করছে।
ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে র্যাব জানায়, ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর মিরপুর ডিওএইচএসের বাসায় ফারাহ দীবা হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরদিন ২৮ অক্টোবর অভিযুক্ত নিরাপত্তাকর্মী মো. মিলন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
তদন্ত ও আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দী এবং চার্জশিটের তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভিকটিমের রুমে প্রবেশ করে তাকে পেছন থেকে ধরে মেঝেতে ফেলে দেয়। এরপর আসামি সবুজ বিশ্বাস ভিকটিমের ওপর বসে মুখ চেপে ধরে রাখে।
পরে মিলন মিয়া ভিকটিমের হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে এবং গামছা দিয়ে মুখ বেঁধে দেয়। এতে নাক-মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হলে শ্বাসরোধ করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। মৃত্যুর পর আসামি সবুজ বিশ্বাস আলমারি খুলে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যায়।
তদন্তে আরও জানা যায়, বাসার স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুটের উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল। ঘটনাটি সে সময় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্বসহকারে প্রচারিত হয়। ঘটনার পর ড্রাইভার সবুজ বিশ্বাস আত্মগোপনে চলে যান।
এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-১২ এর যৌথ অভিযানে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুষ্টিয়া জেলার সদর থানার কোর্ট স্টেশনের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত সবুজ বিশ্বাস দীর্ঘ প্রায় দুই বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিচয় গোপন করে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব আরও জানায়, ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মানবাধিকার সুরক্ষা, নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অপরাধ দমনে তাদের অভিযান আরও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।
ভিওডি বাংলা/এমএস







