মার্কিন হামলায় ১০৪ নাবিকের প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘ডেনা’ ডুবে ১০৪ নাবিকের মৃত্যুর ঘটনায় কঠোর প্রতিশোধের ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। ঘটনাটিকে “সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড” আখ্যা দিয়ে নিহতদের রক্তের বিচার নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা।
শুক্রবার (১২ জুন) ইরানের সেনাবাহিনীর সমন্বয়বিষয়ক উপপ্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল হাবিবোল্লাহ সাইয়ারি একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে প্রেস টিভি।
তিনি দাবি করেন, ‘ডেনা’ যুদ্ধজাহাজটি একটি শান্তি ও বন্ধুত্বপূর্ণ নৌ-মহড়ায় অংশ নেওয়ার পর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালাচ্ছিল এবং এতে কোনো আক্রমণাত্মক অস্ত্র ছিল না। তার অভিযোগ, কোনো ধরনের সতর্কতা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়।
সাইয়ারি বলেন, ‘এই নাবিকরা নিরপরাধ ছিলেন। তারা যদি যুদ্ধক্ষেত্রের যোদ্ধাই হতেন, তাহলে কাপুরুষের মতো এভাবে হামলা করা হলো কেন? আমরা অবশ্যই তাদের প্রতিশোধ নেব।’
ইরানের দাবি অনুযায়ী, গত ৪ মার্চ শ্রীলঙ্কার গলে উপকূলের আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারত আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক নৌ-মহড়া শেষে ফেরার পথে ‘ডেনা’ ফ্রিগেটকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সাবমেরিন ইউএসএস শার্লট দুটি টর্পেডো নিক্ষেপ করে, যার ফলে জাহাজটি ডুবে যায়।
সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটিতে মোট ১৩৬ জন আরোহী ছিলেন। এ ঘটনায় ১০৪ জন নিহত হন, ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয় এবং অন্তত ২০ জনের মরদেহ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নীরবতার সমালোচনাও করেন সাইয়ারি। তিনি বলেন, ‘আমরা ১০৪ জন শহীদকে হারিয়েছি, অথচ আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো এ বিষয়ে কোনো কথা বলছে না।’
অন্যদিকে হামলার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, ‘এই ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে মূল্য দিতে হবে।’
একই অনুষ্ঠানে সাইয়ারি ইরানের ড্রোন সক্ষমতার কথা তুলে ধরে বলেন, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ড্রোন উৎপাদন ও সক্ষমতা বর্তমানে উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তিনি আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর অঞ্চলে ইরানের নৌবাহিনী এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
ভিওডি বাংলা/এমএস







