• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল আয়ারল্যান্ড, দ্বিতীয় রাতেও সহিংসতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ১২ জুন ২০২৬, ০৮:৪৭ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

একটি নৃশংস ছুরিকাঘাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তর আয়ারল্যান্ডে শুরু হওয়া অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ দ্বিতীয় রাতেও সহিংস রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জলকামান ব্যবহার করেছে পুলিশ। সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় অন্তত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১২ জন পুলিশ সদস্য।

বুধবার রাতে রাজধানী বেলফাস্টের উত্তরে নিউটাউনঅ্যাবি এলাকায় বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ও বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করলে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। পুলিশের দাবি, কয়েকজন বিক্ষোভকারী মলোটভ ককটেলও নিক্ষেপ করেছে।

এর আগের রাতে বেলফাস্টের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা বাড়িঘর, গাড়ি, একটি বাস এবং অস্থায়ী ব্যারিকেডে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে বেশ কয়েকটি পরিবার নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা অভিযোগ করেছেন, হামলাগুলোর মূল লক্ষ্য ছিল অভিবাসী ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। সহিংসতার কারণে অন্তত ২৭ জন মানুষ গৃহহীন হয়েছেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্য সরকারের মন্ত্রী রুথ অ্যান্ডারসন। তাদের মধ্যে একটি দুই বছর বয়সী শিশুও রয়েছে।

এক স্থানীয় ধর্মযাজক জানান, তার চার্চের দীর্ঘদিনের সদস্যদের অনেকেই শুধু বর্ণগত পরিচয়ের কারণে হামলার শিকার হয়েছেন। তাদের বাড়ির জানালা ভাঙচুর করা হয়েছে এবং আশপাশের ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ঘটনাটিকে নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, “মানুষকে তাদের পটভূমি ও পরিচয়ের কারণে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। যারা এ ঘটনার জন্য দায়ী, তারা আইনের পূর্ণ শক্তির মুখোমুখি হবে।”

পুলিশ জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া উসকানিমূলক বার্তা ও ব্যক্তিগত ঠিকানা প্রকাশের ঘটনাগুলোও তদন্ত করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের মতে, এসব কর্মকাণ্ড পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে এবং মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

সহিংসতার সূত্রপাত হয় সোমবারের এক ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর। ওই ঘটনায় গুরুতর আহত হন স্টিফেন ওগিলভি নামের এক ব্যক্তি। পরে ৩০ বছর বয়সী এক সুদানি নাগরিকের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরই বিক্ষোভ শুরু হয়।

আদালতে জানানো হয়েছে, হামলায় স্টিফেন ওগিলভি একটি চোখ হারিয়েছেন এবং মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

তবে ভুক্তভোগীর পরিবার সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, “আমরা চাই না এই মর্মান্তিক ঘটনাকে বিভাজন সৃষ্টি বা ঘৃণা ছড়ানোর কাজে ব্যবহার করা হোক। আমাদের পরিবারের নামে কেউ সহিংসতা চালাক, সেটিও আমরা চাই না।”

উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিচারমন্ত্রী নাওমি লং অভিযোগ করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী মানুষের ক্ষোভকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে এবং অভিবাসীবিরোধী বক্তব্য ছড়িয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যে অভিবাসন ইস্যু নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্ক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘৃণামূলক প্রচারণা এবং কট্টর ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা সাম্প্রতিক এই সহিংসতার পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সহিংসতা আরও বিস্তৃত হতে পারে। এ কারণে কয়েকটি স্কুল আগেভাগে ছুটি ঘোষণা করেছে এবং কিছু এলাকায় গণপরিবহন চলাচলও সীমিত করা হয়েছে।

ভিওডি বাংলা/এমএস 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
মেক্সিকোতে সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা
মেক্সিকোতে সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা
খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজার নতুন সূচি জানাল ইরান
খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজার নতুন সূচি জানাল ইরান
রাজনৈতিক চাপের মধ্যেই জে ক্লেটনকে সামনে আনলেন ট্রাম্প
রাজনৈতিক চাপের মধ্যেই জে ক্লেটনকে সামনে আনলেন ট্রাম্প