সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, শিগগিরই স্বাক্ষর

সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারকের (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) খসড়া পাঠে একমত হয়েছে এবং চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে।
সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সমঝোতার আওতায় বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হবে, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন দফার আলোচনার পথ সুগম হবে।
চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে সুইজারল্যান্ডের জেনেভার নাম আলোচনায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন দফার শান্তি আলোচনা আয়োজনের প্রস্তুতিও চলছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার এক বক্তব্যে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র “ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটিয়েছে”। তিনি সম্ভাব্য সমঝোতাকে একটি “খুব শক্তিশালী সমঝোতা স্মারক” হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ইঙ্গিত দেন যে চুক্তি স্বাক্ষরের পথ প্রায় পরিষ্কার।
তবে ট্রাম্পের আশাবাদের বিপরীতে ইরান এখনো সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোনো চুক্তি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তেহরান আলোচনার অগ্রগতির বিষয়টি স্বীকার করলেও আনুষ্ঠানিক সমঝোতা সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা দেয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক মাসগুলোর অন্যতম বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তবে চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকায় পরিস্থিতি পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। দীর্ঘ সংঘাত ও উত্তেজনার পর দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন মোড় আনতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
ভিওডি বাংলা/আরআর/এমএস







