• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live
টপ নিউজ
সোলার এনার্জিতে অধিক সাশ্রয়ী পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়া বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার আহ্বান ডা. জুবাইদার প্রাথমিক শিক্ষায় শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ক পাঠ্যবই যুক্ত হচ্ছে: ববি হাজ্জাজ বিশ্ব শান্তিপ্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর শান্তিরক্ষীরা: প্রধানমন্ত্রী লেক পারাপারে দুর্ভোগ, ধানমন্ডি লেকের সেতু সংস্কার এখনো স্থবির গভীর রাতে আফগানিস্তানে হামলা পাকিস্তানের, শিশুসহ নিহত ১৩ সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আলোচিত সেই নাসির-তামিমা মামলার রায় আজ ১৭ জেলায় ঝড়-বজ্রবৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত দেশে স্বর্ণের দামে ফের পতন

লেক পারাপারে দুর্ভোগ, ধানমন্ডি লেকের সেতু সংস্কার এখনো স্থবির

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১০ জুন ২০২৬, ১২:৪৫ পি.এম.
ধানমন্ডি লেক। ছবি: ভিওডি বাংলা

সংস্কারকাজ চলাকালে হঠাৎ ধসে পড়ে সেতুর লোহার বিম। এরপর থেকেই অচল হয়ে আছে ধানমন্ডি লেকের ১৫/এ এলাকার স্টিলের সেতুটি। ঈদুল আজহার আগে পুরোনো কাঠামো অপসারণের সময় দুটি বিমের একটি লেকের পানিতে পড়ে গেলে পুরো সংস্কারকাজ স্থবির হয়ে পড়ে। ফলে লেকের দুই পাড়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই সংযোগপথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও পথচারীদের প্রতিদিনই অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি বন্ধ থাকায় জনভোগান্তিও ক্রমেই বাড়ছে।

ধানমন্ডি লেকের ১৫/এ অংশে গিয়ে দেখা যায়, একসময় মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত স্টিলের সেতুটি এখন কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সেতুর মূল কাঠামোর নিচের অংশ ধসে গেছে। মাঝখানে থাকা দু’টি স্টিল বিমের একটি পানির ওপর ঝুলে রয়েছে, যা সেতুর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থারই প্রমাণ দেয়। সেতুর এক প্রান্তে শুকনো গাছের ডালপালা ফেলে চলাচল বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

সেতুর ওপর দিয়ে হাঁটার জন্য ব্যবহৃত পাটাতনের কোনো অস্তিত্ব আর নেই। কেবল দুই পাশের মরিচাধরা রেলিং এবং কিছু স্টিলের অবকাঠামো টিকে আছে। নিচে লেকের পানিতে ভাসতে দেখা যায় প্লাস্টিক, পলিথিন, শুকনো পাতা ও নানা ধরনের বর্জ্য।

লেকের তীরঘেঁষা অংশে বসানো জালেও আটকে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ভাসমান আবর্জনা। চারদিকে বহুতল ভবন ও অভিজাত আবাসিক এলাকা থাকা সত্ত্বেও লেকের এই অংশের এমন বেহাল ও অবহেলিত চিত্র সহজেই নজরে পড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেতুর সংস্কারকাজের অংশ হিসেবে লোহার বিম স্থাপনের সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কোনো দায়িত্বশীল কারিগরি কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে কাজের তদারকি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। লেক পারাপারের সময় সেতু দুলতে থাকায় অনেকের মধ্যেই আতঙ্ক কাজ করত। ঈদুল আজহার আগে সেতুটি ভেঙে ফেলার পর থেকে তাদের চলাচলে বাড়তি ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। এখন লেকের এক পাশ থেকে অন্য পাশে যেতে হলে অনেকটা পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে।

ধানমন্ডি ১৫/এ এলাকার বাসিন্দা তানজিল বলেন, ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ আগে সেতুর সংস্কারকাজ শুরু হতে দেখি। তখন সেখানে দুটি লোহার বিম বসানো হয়েছিল। কিন্তু ঈদের আগের দিন একটি বিম পানিতে পড়ে যায়। এরপর সেটি আর উদ্ধার করা হয়নি। ঈদের পরও সেতুর কাজ নতুন করে শুরু হতে দেখিনি।

তিনি আরও বলেন, সেতুটি ভেঙে ফেলার আগেই এর অবস্থা খুবই নাজুক ছিল। মানুষ চলাচল করলে পুরো সেতু কেঁপে উঠত। অনেকেই ভয়ে সেতু ব্যবহার করতেন। দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ করে সেতুটি চালু করা প্রয়োজন।

আরেক পথচারী নিলয় বলেন, আমি শংকর এলাকায় থাকি এবং প্রায়ই ধানমন্ডি লেকে সময় কাটাতে আসি। বেশ কিছুদিন ধরেই লক্ষ্য করেছি, সেতুটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এক পাশ থেকে অন্য পাশে যাওয়ার সময় সেতুটি দুলত, ফলে সবসময় একটা শঙ্কা কাজ করত।

তিনি বলেন, কিছুদিন আগে দেখি সেতুটি খুলে ফেলা হয়েছে। ভেবেছিলাম দ্রুত মেরামত করা হবে। কিন্তু এখনো কাজের কোনো অগ্রগতি চোখে পড়ছে না। ফলে লেক পারাপারের জন্য আমাকে প্রতিদিনই অতিরিক্ত পথ হাঁটতে হচ্ছে, যা সাধারণ পথচারীদের জন্যও ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চাইলে, সেতুর সংস্কারকাজ এখনো শুরু না হওয়া এবং বিম স্থাপনের সময় কোনো কারিগরি কর্মকর্তা উপস্থিত না থাকার বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম ভিওডি বাংলাকে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।

পরে এ বিষয়ে কথা হলে ডিএসসিসির প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান ভিওডি বাংলাকে জানান, সেতুর দুটি বিমই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ঈদুল আজহার আগে সেতু অপসারণের পর ক্রেনের সাহায্যে দুটি নতুন বিম বসানোর কাজ শুরু হয়েছিল। তবে কাজ চলাকালে একটি বিম পানিতে পড়ে যায়। পরে সেটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, যারা তখন কাজ করছিল, তারা এখন আর কাজ করবে না। নতুন করে বড় ক্রেন এনে বিম স্থাপন করা হবে। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

বিম স্থাপনের সময় ডিএসসিসির কোনো কারিগরি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না কেন-এমন প্রশ্নের জবাবে নূর আজিজুর রহমান বলেন, কারিগরি কর্মকর্তা উপস্থিত থাকলেই যে দুর্ঘটনা এড়ানো যেত, বিষয়টি এমন নয়। বিমগুলো প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ এবং প্রতিটির ওজন কয়েক টন। এগুলো স্থাপন করা অত্যন্ত জটিল কাজ। তবে আমরা যত দ্রুত সম্ভব সেতুটি সচল করার চেষ্টা করছি।

তিনি আরও জানান, আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে সেতুর সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অবৈধ দখলে কঠোর অবস্থান ডিএসসিসির
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অবৈধ দখলে কঠোর অবস্থান ডিএসসিসির
ম্যাজিস্ট্রেট বললেন, ‘সরি’, কিন্তু বৃদ্ধার কি হবে?
ম্যাজিস্ট্রেট বললেন, ‘সরি’, কিন্তু বৃদ্ধার কি হবে?
মিরপুরে সিটিটিসির অভিযানে জেল পলাতক প্রতারক গ্রেপ্তার
মিরপুরে সিটিটিসির অভিযানে জেল পলাতক প্রতারক গ্রেপ্তার