• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

ডিএনসির অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৩১ পি.এম.
উদ্ধার করা ইয়াবা ট্যাবলেট, নগদ অর্থ ও মোটরসাইকেল। ছবি: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)
উদ্ধার করা ইয়াবা ট্যাবলেট, নগদ অর্থ ও মোটরসাইকেল। ছবি: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)

মাদক পাচারবিরোধী ধারাবাহিক গোয়েন্দা অভিযানে রাজধানী থেকে যশোরে ইয়াবা নেওয়ার সময় সংঘবদ্ধ একটি চক্রের আরও চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ১৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা, নগদ এক লাখ ১০ হাজার টাকা, চারটি মোবাইল ফোন এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

ডিএনসি জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হচ্ছে, অন্যদিকে সংঘবদ্ধ মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনার কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ জুন রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে দক্ষিণাঞ্চলের পরিচিত মাদক কারবারি মো. বাবুল হোসেন ওরফে বাবুকে ১৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। ওই ঘটনার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ এবং দীর্ঘদিনের নজরদারির মাধ্যমে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মাদক পাচার নেটওয়ার্কের আরও কয়েকজন সদস্যের পরিচয় নিশ্চিত হয়।

ডিএনসি জানায়, গোপন সংবাদের মাধ্যমে তারা জানতে পারে, যশোরভিত্তিক একটি মাদক চক্র ঢাকায় ইয়াবার চালান সংগ্রহ করে মোটরসাইকেলে করে যশোরে নিয়ে যাবে। এ তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাক আহমেদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৬ জুলাই রাতে রাজধানীর শ্যামপুর থানার ধোলাইপাড় এলাকায় ঢাকা-যশোর মহাসড়কে নজরদারি বসানো হয়। একপর্যায়ে সন্দেহভাজন দু’টি মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে তল্লাশি চালানো হয়। পরে সেখান থেকে চারজনকে আটক করা হয়।

তল্লাশির সময় তাদের হেফাজত থেকে ১৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি মাদক বিক্রির এক লাখ ১০ হাজার টাকা, চারটি মোবাইল ফোন এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন-মো. প্রিন্স মাহমুদ (৩৭), মনিরা বেগম মিষ্টি (৩০), মো. জহিরুল হক তুহিন (৩২) এবং মোছা. জলি বেগম (২০)।

ডিএনসির দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে পরস্পরের সহযোগিতায় ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য দিয়েছেন। তারা ঢাকায় মাদক সংগ্রহ করে মোটরসাইকেলের মাধ্যমে যশোরে নিয়ে বিভিন্ন কারবারির কাছে সরবরাহ করতেন।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে চক্রটি মাদক পরিবহনের কৌশল পরিবর্তন করেছিল। বড় যানবাহনের পরিবর্তে মোটরসাইকেল ব্যবহার করে তারা দ্রুত ও গোপনে ইয়াবা বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে দিত।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি সুসংগঠিত মাদক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে এবং নিয়মিত ইয়াবা পাচারের কার্যক্রম পরিচালনা করছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ডিএনসি।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) শ্যামপুর থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ডিএনসি জানিয়েছে, মামলার তদন্ত ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্য, অর্থদাতা, সরবরাহকারী এবং সহযোগীদের শনাক্তে গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তাদের আইনের আওতায় আনতে অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বলেছে, দেশে নিষিদ্ধ ইয়াবাসহ সব ধরনের অবৈধ মাদকের বিস্তার রোধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও একইভাবে চলবে। মাদক পাচারকারী ও কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি নতুন নেটওয়ার্ক শনাক্ত করেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

ভিওডি বাংলা/জা


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
আদাবরে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেপ্তার ৭
ছবি: সংগৃহীত
মুগদায় পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১০
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানিতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ২৯৬