আদাবরে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেপ্তার ৭

রাজধানীর আদাবর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) আদাবর থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে চাপাতি, ছোরা, কুড়াল ও শাবলসহ বিভিন্ন ধরনের ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে অভিযানের সময় আরও কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
বুধবার (৮ জুলাই) রাত পৌনে ১১টার দিকে গোপন সংবাদের মাধ্যমে তথ্য পাওয়া যায় যে, আদাবর থানার শেখেরটেক ৭ নম্বর সড়কের মাথায় একটি সেতুর ঢালের পাশে সরু গলিতে কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জড়ো হয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সংবাদের ভিত্তিতে আদাবর থানার একটি দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে অভিযান পরিচালনা করে ঘটনাস্থল থেকে সাতজনকে আটক করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের কয়েকজন সহযোগী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন-মো. সাইদ (২৪), আকাশ (২৩), মো. ফারুক ওরফে কুত্তা ফারুক (২৬), কর্ণেল (১৯), মো. মাইন উদ্দিন (২১), মো. সিফাত ওরফে হিটার (২২) এবং মো. নাহিদুল (২৫)।
অভিযান চলাকালে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি লোহার চাপাতি, একটি স্টিলের ছোরা, দু’টি স্টিলের চাপাতি, একটি লোহার কুড়াল এবং একটি লোহার শাবল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলোর মধ্যে একটি চাপাতির দৈর্ঘ্য বাটসহ প্রায় ১৩ দশমিক ৫ ইঞ্চি, একটি ছোরার দৈর্ঘ্য ২২ ইঞ্চি, দুটি স্টিলের চাপাতির দৈর্ঘ্য যথাক্রমে ২২ দশমিক ৫ ও ২০ ইঞ্চি। এছাড়া একটি কুড়ালের দৈর্ঘ্য লোহার পাইপসহ ২৭ ইঞ্চি এবং একটি শাবলের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮ দশমিক ৫ ইঞ্চি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে। তাদের মধ্যে মো. মাইন উদ্দিনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এবং দণ্ডবিধির ডাকাতির চেষ্টাসংক্রান্ত ধারায় দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া মো. ফারুকের বিরুদ্ধে দিনাজপুর সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রয়েছে।
অন্যদিকে মো. সাইদের বিরুদ্ধে আদাবর থানায় দণ্ডবিধির ৩৯২ ধারায় দায়ের হওয়া একটি মামলার তথ্যও পুলিশের নথিতে রয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ বলছে, অভিযানের পর গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আদাবর থানায় দু’টি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় দণ্ডবিধির ৩৯৯ ও ৪০২ ধারায় ডাকাতির প্রস্তুতি এবং ডাকাতির উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। অপর মামলাটি ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯ ধারায় রুজু করা হয়েছে।
মামলাগুলোর তদন্তভার দেওয়া হয়েছে আদাবর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইয়ামিন সরকারের ওপর।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানের পর এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং বর্তমানে আদাবর থানার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পলাতক সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ভিওডি বাংলা/জা








মন্তব্য