দেশের ফুটবলকে টেনে তুলতে-ই হবে: আবদুস সালাম

দেশের ফুটবলকে টেনে তুলতেই হবে। ফুটবলকে যদি আমরা এগিয়ে নিতে পারি, তাহলে আজকের মতো ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকে নিয়ে যে উৎসব বাংলাদেশে হয়, একসময় বাংলাদেশের ফুটবল নিয়েও এমন উৎসব হতো বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
রোববার (৭ জুন) অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৫-এর চূড়ান্ত পর্বের সংবাদ সম্মেলন ও ড্র অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ফুটবল বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়লেও তৃণমূল পর্যায়ে ফুটবলের বিস্তার অনেক বেশি। তাই সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে ফুটবলকে আবার জাতীয় পর্যায়ে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।
দেশের ফুটবলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর ফুটবলে কিছুটা হলেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। এই গতি আরও বাড়াতে হবে। ঢাকার ফুটবলে প্রাণ ফিরিয়ে আনতে হবে এবং মানুষকে আবার স্টেডিয়ামমুখী করতে হবে।
নিজের ক্রীড়া সংগঠক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আবদুস সালাম বলেন, তিনি একসময় পাইওনিয়ার লিগের সেক্রেটারি ও চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সময়ের অনেক খেলোয়াড় পরবর্তীতে জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন। তিনি গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন, বর্তমান আয়োজকদের মধ্যে কাননও তার পাইওনিয়ার লিগের একজন খেলোয়াড় ছিলেন।
তিনি বলেন, খেলোয়াড় তৈরিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। তিনি নিজেও অতীতে পাইওনিয়ার লিগ ও অনূর্ধ্ব-১৬ জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে ৮০ থেকে ১০০ জন খেলোয়াড় বাছাই করে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলেন। পরবর্তীতে তাদের অনেকেই জাতীয় দলে খেলেছেন, এমনকি অধিনায়কত্বও করেছেন।
অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতার উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এই প্রতিযোগিতা থেকে ভবিষ্যতে অনেক জাতীয়মানের ফুটবলার উঠে আসবে, যারা দেশের ফুটবলের মুখ উজ্জ্বল করবে।
দেশের ফুটবলকে এগিয়ে নিতে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায়ের সহযোগিতা প্রয়োজন-এ কথা উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, একসময় ফুটবল, ক্রিকেট ও হকিসহ বিভিন্ন খেলাকে পৃষ্ঠপোষকতা করার জন্য বিজিএমসি, বিমান, রেলওয়ে, বিসিআইসিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসত। এসব প্রতিষ্ঠান খেলোয়াড়দের চাকরি ও অন্যান্য সুবিধা দিত। ফলে খেলাধুলার পরিবেশ আরও শক্তিশালী ছিল। সেই ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা আবারও বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি বলেন, শুধু টুর্নামেন্ট আয়োজন নয়, এর পরবর্তী কোচিং ও ট্রায়াল কার্যক্রমও সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন, যাতে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের যথাযথভাবে গড়ে তোলা যায়।
আবদুস সালাম বলেন, আমি একসময় জাতীয় ফুটবল দলের নির্বাচক কমিটির একজন সদস্য ছিলাম-এটি আমার জন্য গর্বের বিষয়। তাই আমি নিজেকে সবসময় ক্রীড়াঙ্গনের একজন মানুষ মনে করি।
তিনি জানান, আজীবন খেলাধুলার সঙ্গে ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের যেকোনো উদ্যোগ, পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টার সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত থাকবেন।
ভিওডি বাংলা/জা







