• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

কেন হয় মুড সুইং?

মেহেদী সৌরভ    ৭ জুন ২০২৬, ০২:৫৩ এ.এম.
ছবি: আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) দিয়ে তৈরী

সকালে ঘুম থেকে উঠে বেশ ফুরফুরে মেজাজে ছিলেন। অফিসে গিয়ে সহকর্মীর একটি কথায় হঠাৎ বিরক্ত হয়ে গেলেন। দুপুরে আবার প্রিয় কোনো গান শুনে মন ভালো হয়ে গেল। এমন ওঠানামা প্রায় সবার জীবনেই ঘটে। 

কিন্তু প্রশ্ন হলো- মানুষের মুড কেন বদলায়? এর পেছনে কি শুধু মানসিক কারণ, নাকি শরীরের ভেতরেও চলে নানা পরিবর্তন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের আবেগ বা মুড কোনো একক কারণে নিয়ন্ত্রিত হয় না।মস্তিষ্কের রাসায়নিক উপাদান, হরমোন, ঘুম, খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ এবং দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা সবকিছু মিলিয়েই তৈরি হয় আমাদের মানসিক অবস্থা।

অনুভূতির রিমোট মস্তিষ্কে

মস্তিষ্কে থাকা সেরোটোনিন, ডোপামিন ও নরএপিনেফ্রিনের মতো নিউরোট্রান্সমিটার মানুষের আনন্দ, দুঃখ, উদ্বেগ ও উদ্দীপনার সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব রাসায়নিকের মাত্রায় পরিবর্তন ঘটলে মানুষের অনুভূতিও বদলে যেতে পারে।

এ কারণেই কখনো সামান্য একটি সুখবর মন ভালো করে দেয়, আবার কোনো ছোট ঘটনা অকারণেই বিরক্তি বা হতাশার জন্ম দেয়।

ঘুমের ঘাটতি: খিটখিটে মেজাজ

পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমে যায়। ফলে মানুষ সহজেই রেগে যেতে পারে কিংবা অল্পতেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের অভাব শুধু ক্লান্তিই বাড়ায় না, এটি উদ্বেগ ও মুড সুইংয়ের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়।

মূল কারণ কি?

কর্মক্ষেত্রের চাপ, আর্থিক অনিশ্চয়তা, পারিবারিক সমস্যা কিংবা সম্পর্কের টানাপোড়েন শরীরে কর্টিসল নামে পরিচিত স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চলতে থাকলে মানুষের আবেগের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।

ফলে কেউ সহজেই হতাশ, উদ্বিগ্ন বা রাগান্বিত হয়ে পড়তে পারেন।

ক্ষুধাজনিত 'মুড সুইং'

দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায়। এতে শরীরের সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কও প্রভাবিত হয়। অনেক সময় ক্ষুধা, পানিশূন্যতা কিংবা অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের কারণেও মানুষ অস্থির বা বিরক্ত বোধ করতে পারেন।

হরমোনের ওঠানামা

কৈশোর, গর্ভাবস্থা, মাসিকের সময় কিংবা মেনোপজ জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। এসব পরিবর্তন অনেকের ক্ষেত্রে আবেগের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নারীদের ক্ষেত্রে হরমোনজনিত কারণে মুড সুইং তুলনামূলক বেশি দেখা গেলেও পুরুষদের ক্ষেত্রেও হরমোন পরিবর্তন মানসিক অবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে।

যেসব মুড সুইং অস্বাভাবিক 

মুডের স্বাভাবিক ওঠানামা মানুষের জীবনের অংশ। তবে যদি বারবার তীব্র আবেগের পরিবর্তন হয়, দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হয় বা সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, তাহলে তা বিষণ্নতা, বাইপোলার ডিসঅর্ডার, উদ্বেগজনিত সমস্যা বা অন্য কোনো শারীরিক অসুস্থতার লক্ষণও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

আসলে মুড সুইং কি খারাপ কিছু?

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের আবেগ কখনোই স্থির থাকে না। আনন্দ, দুঃখ, রাগ কিংবা উদ্বেগ সবই মানবিক অনুভূতির অংশ। তাই মাঝেমধ্যে মুডের পরিবর্তন স্বাভাবিক। তবে এর মাত্রা ও প্রভাবই নির্ধারণ করে বিষয়টি সাধারণ নাকি চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে।

মানুষ কোনো যন্ত্র নয়, তাই আবেগও সব সময় একই রকম থাকে না। কখনো একটি ভালো খবর, কখনো এক রাতের কম ঘুম, আবার কখনো শরীরের ভেতরে চলা অদৃশ্য হরমোনের পরিবর্তন এসবই বদলে দিতে পারে মানুষের মনের রং। 

তাই মুড সুইংকে শুধু ‘মেজাজ খারাপ’ বলে উড়িয়ে না দিয়ে, এর পেছনের বিজ্ঞান ও শারীরিক-মানসিক কারণগুলো বোঝাটাই গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: মায়ো ক্লিনিক, ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক ও বিভিন্ন মনোবিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণা এবং
তথ্য সহায়তার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা নেওয়া হয়েছে।

ভিওডি বাংলা/এমএস

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ইনজেকশন দিয়ে মোটাতাজা করা গরু চেনার উপায়
ইনজেকশন দিয়ে মোটাতাজা করা গরু চেনার উপায়
সহজ উপায়ে ঘরেই তৈরি করুন মাটন কালাভুনা
সহজ উপায়ে ঘরেই তৈরি করুন মাটন কালাভুনা
ঈদে যেভাবে ঘরেই তৈরি করবেন কাবাব গোশত
ঈদে যেভাবে ঘরেই তৈরি করবেন কাবাব গোশত