সীমান্ত হত্যা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ‘আপত্তিকর’, প্রত্যাহার দাবি নাহিদের

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সীমান্তে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দীন আহমেদের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি ওই বক্তব্যকে ‘আপত্তিকর’ ও ‘অপমানজনক’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
রোববার (৭ জুন) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে নাহিদ ইসলাম এ দাবি জানান।
পোস্টে তিনি বলেন, সীমান্ত হত্যা নিয়ে একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছ থেকে এমন বক্তব্য জাতির জন্য লজ্জাজনক। বক্তব্য দেওয়ার তিন দিন পার হলেও সালাউদ্দীন আহমেদ তা প্রত্যাহার বা ব্যাখ্যা করেননি। একই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, এ পরিস্থিতিতে অনেকের কাছে মনে হতে পারে যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যই সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান।
সম্প্রতি এক বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত হত্যা বলতে সাধারণত সীমান্ত বা শূন্যরেখায় অন্য দেশের বাহিনীর হাতে হত্যাকাণ্ডকে বোঝায়। তবে কেউ অবৈধভাবে অন্য দেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করলে বা কোনো অপরাধে জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্ট দেশ তাদের নিজস্ব আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে। এমন ঘটনাকে সীমান্ত হত্যা বলা ঠিক হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও আন্তর্জাতিক চুক্তির চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক আইনে প্রতিটি মানুষের জীবনের অধিকার সুরক্ষিত এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কঠোর সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
পোস্টে তিনি আরও বলেন, চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ কিংবা অন্য কোনো অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগকে আন্তর্জাতিক নীতিমালা সমর্থন করে না।
নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, অতীতেও সীমান্ত হত্যা নিয়ে অনুরূপ বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল। তিনি মনে করেন, জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় এ ধরনের অবস্থান গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি উদ্বেগজনক।
সবশেষে তিনি অবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
ভিওডি বাংলা/আ







