• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

গজারিয়ায় তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা, গ্রেপ্তার ৪

গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি    ১ জুন ২০২৬, ০২:২১ পি.এম.
তরুণীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার চার আসামি। ছবি: সংগৃহীত

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থাটি।

শুক্রবার (২৯ মে) গজারিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি ফুলদী নদী থেকে এক তরুণীর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে। 

মরদেহটি উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের বড় ভাটেরচর এলাকার একটি বসতবাড়ির পূর্ব পাশের নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। প্রথমে পরিচয় শনাক্ত করা না গেলেও তদন্তে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করে পিবিআই। নিহত তরুণীর নাম হালিমা আক্তার (১৯)। তিনি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের জামালদী এলাকার বাসিন্দা।

এ ঘটনায় নিহতের বোন হোসনেয়ারা আক্তার বৃষ্টি বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরদিনই পিবিআই মুন্সীগঞ্জ জেলা স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্তভার গ্রহণ করে। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং স্থানীয় সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা দ্রুত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হন বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।তদন্তের একপর্যায়ে চারজনকে শনাক্ত করা হয়।

তারা হলেন আবু কালাম (৪৮), জামাল হোসেন (৪৪), রাসেল মিয়া (৪৪) এবং আলামিন প্রধান (৫০)। পরে গজারিয়ার বড় ভাটেরচর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে হাজির করা হলে চারজনই ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। 

তদন্তে উঠে এসেছে, নিহত হালিমা আক্তারের সঙ্গে অভিযুক্তদের কয়েকজনের আর্থিক ও ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল। পিবিআই বলছে, আবু কালামের কাছে প্রায় ২৫ হাজার টাকা এবং রাসেল মিয়ার কাছে প্রায় ১০ হাজার টাকা পাওনা ছিল হালিমার।

পাশাপাশি অভিযুক্ত জামালের সঙ্গে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়ও তদন্তে উঠে এসেছে। জবানবন্দি ও প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, হালিমা আক্তার তাদের বিভিন্ন বিষয় অন্যদের কাছে প্রকাশ করে দিতে পারেন-এমন আশঙ্কা থেকে অভিযুক্তরা তাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে। ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ আগে চারজন একত্র হয়ে হত্যার পরিকল্পনা করে বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৬ মে সন্ধ্যার পর কৌশলে হালিমা আক্তারকে বড় ভাটেরচর এলাকার নদীতীরে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর একটি নৌকায় করে তাকে নদীর ওপারে নির্জন একটি চরের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভুট্টাক্ষেতের মধ্যে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে ঘটনাটি গোপন রাখতে এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের আইনি জটিলতা এড়াতে তাকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পিবিআই। হত্যার পর মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়, যাতে ঘটনাটি দুর্ঘটনা বা নিখোঁজের ঘটনা হিসেবে আড়াল করা যায়। নদীতে ভাসমান মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্ত শুরু করে পিবিআই। 

বিভিন্ন প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ, স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ এবং ঘটনাস্থল সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে তদন্তকারীরা দ্রুত সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করেন।

পরে অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করা হয়।পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না কিংবা আরও কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করা এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একটি তরুণীর এমন নির্মম মৃত্যুতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। 

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
‘মটকা গরম কইরেন না’— বক্তব্যে সমালোচনার মুখে এমপি মাসুদ
‘মটকা গরম কইরেন না’— বক্তব্যে সমালোচনার মুখে এমপি মাসুদ
ফেসবুকে পদত্যাগের ঘোষণা এনসিপি নেতার
ফেসবুকে পদত্যাগের ঘোষণা এনসিপি নেতার
দক্ষিণ সুদানে বাংলাদেশি সেনাসদস্যের মৃত্যু
দক্ষিণ সুদানে বাংলাদেশি সেনাসদস্যের মৃত্যু