বন্ধুর বাড়িতে সিঁধ কেটে চুরি, আটক ৩

বরিশালের মুলাদীতে এক বন্ধুর বাড়িতে সিঁধ কেটে চুরির অভিযোগে তিন যুবককে আটক করেছে স্থানীয়রা। পরে তাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী যুবকের দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রোববার (৩১ মে) সকালে মুলাদী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের তেরচর গ্রামের পাইতিখোলা খেয়াঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা।
আটকরা হলেন- তেরচর গ্রামের অলিউল্লাহ মাঝি (২১), ইয়ামিন (২৪) এবং চরডিক্রী এলাকার নয়ন সিকদার (২৫)। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা এবং ভুক্তভোগী ফাহাদ হাওলাদার দীর্ঘদিনের বন্ধু।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, শনিবার (৩০ মে) গভীর রাতে ফাহাদ হাওলাদারের বাড়িতে সিঁধ কেটে প্রবেশ করে তিন বন্ধু। ঘরের ভেতর থেকে তিনটি মোবাইল ফোন, স্বর্ণ ও রুপার অলংকার এবং নগদ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যায় তারা।
ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পাননি। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘরের একটি অংশে সিঁধ কাটা এবং মালপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান ফাহাদ।
পরে তিনি বুঝতে পারেন যে তার বাড়িতে চুরি হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা এলাকায় খোঁজখবর শুরু করেন। সকাল ৭টার দিকে ফাহাদের তিন বন্ধুকে একসঙ্গে ঘোরাফেরা করতে দেখে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার সন্দেহ হয়। তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে একপর্যায়ে তারা চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বলে জানা যায়।
এরপর তাদের দেহ তল্লাশি করে চুরি হওয়া তিনটি মোবাইল ফোন, একটি রুপার চেইন, একটি আংটি এবং নগদ ৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে স্থানীয়রা তিনজনকে উদ্ধারকৃত মালামালসহ মুলাদী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। মুলাদী থানার ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, ভুক্তভোগী ফাহাদ হাওলাদার বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় তার তিন বন্ধুকেই আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় অভিযুক্তদের আটক করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও জানান, রোববার দুপুরে তিন আসামিকে আদালতে পাঠানো হলে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে নেওয়া হয়। এ ছাড়া চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থের বাকি অংশ উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা চুরির ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তবে পুরো ঘটনার পেছনে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, কিংবা চুরি হওয়া বাকি মালামাল কোথায় রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভিওডি বাংলা/জা







