যুদ্ধবিরতি ভেঙে লেবাননে বিমান হামলা, নিহত ১৪

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আবারও দক্ষিণ লেবাননে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
গতকাল রবিবার দিনভর চালানো এই হামলায় নারী ও যুবকসহ অন্তত ১৪ জন লেবানিজ নাগরিক নিহত হয়েছেন। আকস্মিক এই হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রবিবারের হামলায় সবচেয়ে বেশি রক্তপাত ও প্রাণহানি ঘটেছে নাবাতিয়া প্রদেশের ‘সাইর আল-গারবিয়াহ’ শহরে। সেখানে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে একটি আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে চালালে একযোগে ১১ জন নিহত ও ৯ জন আহত হন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ চাপা পড়ে আছে কি না, তা খুঁজে দেখছেন উদ্ধারকর্মীরা।
অন্যদিকে, টায়ার জেলার ‘বাজুরিয়াহ’ শহরে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের পৃথক হামলায় একজন নিহত এবং দুইজন আহত হয়েছেন। একই জেলার ‘তুরা’ শহরের একটি বসতবাড়িতে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় জায়নবাদী বাহিনী। এতে ঘটনাস্থলেই এক নারী নিহত এবং দুইজন আহত হন। এছাড়া, নাবাতিয়া জেলার ‘আরাবসালিম’ শহরে একটি ড্রোন হামলায় এক লেবানিজ যুবক প্রাণ হারিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী জুলাই মাসের শুরুর দিক পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি বজায় থাকার কথা ছিল। কিন্তু শুরু থেকেই সেই আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘন করে দক্ষিণ লেবাননে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তেলআবিব।
উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ থেকে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের সীমান্তজুড়ে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। লেবাননের সরকারি কর্মকর্তাদের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ইসরায়েলের বর্বর বোমাবর্ষণে ৩ হাজার ১০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন ৯ হাজার ৫০০ জনের বেশি। এছাড়া প্রায় ১৬ লাখ মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছেন।
ভিওডি বাংলা/বিন্দু







